বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ:
নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ স্লোগানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে টেলিনর সিইও-র সাক্ষাৎ জ্বালানি সাশ্রয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত: ৩ মাস সরকারি তেল নেবেন না মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম নারীদের ডিজিটাল ও আর্থিক ক্ষমতায়নে রমণীর সাথে বাংলালিংকের অংশীদারিত্ব জ্বালানি সংকটে তৈরি পোশাক উৎপাদন ২৫-৩০ শতাংশ হ্রাস; বিজিএমইএ’র জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি<gwmw style="display:none;"></gwmw> মানি মার্কেটে লেনদেন-ভিত্তিক রেফারেন্স রেট চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক রেজুলেশন আইন দুর্নীতির সহায়ক ও লুটেরাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ: টিআইবি কৃষিখাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই কৃষক কার্ডের লক্ষ্য : মাহদী আমিন<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে আলতাফ হুসাইনের দায়িত্ব গ্রহণ

শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুনে পোশাক শিল্পের কাঁচামাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্যাম্পল ধ্বংস: বিজিএমইএ

ঢাকা: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে তৈরি পোশাক শিল্পের মূল্যবান কাঁচামাল, রপ্তানির জন্য প্রস্তুত পোশাক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক নমুনা (স্যাম্পল) ধ্বংস হয়ে গেছে। এই দুর্ঘটনা দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে, বিশেষ করে পোশাক শিল্পে মারাত্মক আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

রবিবার (১৯ অক্টোবর) দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বিমানবন্দরের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসে বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান এসব কথা বলেন।

ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ গভীর উদ্বেগ: ইনামুল হক খান বলেন, “গতকাল (শনিবার) বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এ ঘটনায় আমরা বিজিএমইএ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই ঘটনা দেশের রপ্তানি বাণিজ্য, বিশেষ করে পোশাক শিল্পকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।”

উচ্চমূল্যের পণ্য ভস্মীভূত: তিনি জানান, সাধারণত উচ্চমূল্যের পণ্য এবং জরুরি চালানগুলো আকাশপথে পাঠানো হয়। অগ্নিকাণ্ডের ফলে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পণ্যসামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

স্যাম্পল হারানো মানে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক ঝুঁকি: ধ্বংস হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল রপ্তানির জন্য প্রস্তুত পোশাক, মূল্যবান কাঁচামাল এবং অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ স্যাম্পল। মিস্টার খান ব্যাখ্যা করেন, “এই স্যাম্পলগুলোই নতুন ব্যবসার পথ উন্মোচন করে এবং ব্যবসা উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। এগুলো হারানো মানে ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়া।”

ক্ষতিগ্রস্ত স্থান ও পুনরুদ্ধারের সময় ভেতরের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে ইনামুল হক খান বলেন, “আমরা ভেতরে গেলাম, ভেতরে গিয়ে আমরা বিধ্বস্ত অবস্থা দেখলাম, ভয়াবহ অবস্থা দেখলাম। আমদানির সেকশনটা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ভেতরে যাওয়ার পরই আমরা এর ভয়াবহতা বুঝতে পারলাম। এই সেকশনটি আবার সচল করতে ১৫ দিন থেকে ১ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।”

বিজিএমইএর পদক্ষেপ ও দাবি ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ: বিজিএমইএ ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু করেছে।

অনলাইন পোর্টাল: সদস্যদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফরমেটে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের তালিকা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি অনলাইন ডেটা কালেকশন পোর্টাল চালু করা হয়েছে।

টার্মিনাল ৩-এ নতুন জায়গা: প্রতিনিধিদলের সঙ্গে থাকা বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ জানান, বাণিজ্য উপদেষ্টা তাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে কার্গো ভিলেজ অকেজো হয়ে যাওয়ায় আমদানি করা পণ্য পরিচালনার জন্য টার্মিনাল ৩-এ নতুন জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হবে।

দ্রুত পণ্য খালাস: সামাদ আরও বলেন, আমদানি করা পণ্য দ্রুত খালাস করার প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে বিজিএমইএ পক্ষ থেকে পণ্যের ছাড়পত্রের সময় ৭২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৩৬ ঘণ্টা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি কারখানার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা পোশাক শিল্পের জন্য বিশাল ক্ষতি।