শুক্রবার ৮ মে, ২০২৬
সর্বশেষ:
বাংলাদেশ ব্যাংকের আধুনিকায়নে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা পুনর্গঠনে নীতিগত সহায়তার মেয়াদ বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক পরিবহন খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় একীভূত নীতিমালা জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট: দোকান মালিক সমিতি পোশাক খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিজিএমইএ ও আইভি ডিকার্ব-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর তেল-গ্যাসের পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়: নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের সৌদি তেলের জাহাজ বন্দরে: পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ভুক্তভোগী আমানতকারীদের মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন প্রতিবাদ মূল শিরোনাম: দেশে ফের বাড়ল মূল্যস্ফীতি, এপ্রিলে দাঁড়িয়েছে ৯.০৪ শতাংশে

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর: আজও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারগুলো এখনও সঠিক বিচার, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং স্থায়ী পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত—বুধবার এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ এই শিল্প দুর্ঘটনার ১৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম’-এর উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

নিরাপত্তায় রয়ে গেছে বড় ঘাটতি

জাতীয় ও সেক্টরভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, শ্রমিক অধিকার কর্মী এবং দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা শ্রমিকরা সভায় জানান যে, রানা প্লাজার পরও তাজরীন ফ্যাশনস, হাশেম ফুডস এবং সাম্প্রতিক নারায়ণগঞ্জের গ্যাস লাইটার কারখানার মতো দুর্ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে শিল্প খাতে এখনও নিরাপত্তার গুরুতর অভাব রয়েছে।

বক্তারা বলেন, অগ্নি নিরাপত্তা, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং রাসায়নিক ব্যবস্থাপনায় অবহেলার পাশাপাশি দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতার অভাবই এসব ট্র্যাজেডির মূল কারণ।

বিচার ও ক্ষতিপূরণে দীর্ঘসূত্রতা

আলোচনা সভায় বক্তারা আক্ষেপ করে বলেন, “১৩ বছর পার হয়ে গেলেও নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারগুলো ন্যায্য বিচার বা দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পায়নি।” তারা আরও অভিযোগ করেন যে, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে নানা বাধার কারণে শ্রমিকরা নিজেদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে সোচ্চার হতে পারছেন না।

রানা প্লাজা ও তাজরীন দুর্ঘটনার শিকার শ্রমিকরা সরকারের দেওয়া ‘পারিবারিক কার্ড’ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও মন্তব্য করেন যে, তাদের দীর্ঘমেয়াদী অভাব ও প্রয়োজনের তুলনায় এটি অত্যন্ত অপ্রতুল।

সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান

শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম জোর দিয়ে বলেছে যে, রাষ্ট্র এই দায় এড়াতে পারে না। বিলস-এর ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় নেতৃবৃন্দ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানান:

  • শিল্পে অবহেলার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।
  • মালিকদের দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করা।
  • সরকার, মালিকপক্ষ এবং সুশীল সমাজের সমন্বিত উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীগণ

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুলের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিলস-এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমদ, শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-আহ্বায়ক মেজবাউদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ লেবার রাইটস জার্নালিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এস এম আলমগীর হোসেন। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (স্বাস্থ্য) ডা. বিশ্বজিৎ রায় ভবিষ্যতে নিরাপত্তা প্রোটোকল নিশ্চিত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

সভা শেষে একটি র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা নিরাপদ ও মানবিক কর্মপরিবেশের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

প্রেক্ষাপট: ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে ১,১৩৫ জন শ্রমিক প্রাণ হারান এবং ২,৪৩২ জন আহত হন। এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করলেও আজও অনেক উত্তরজীবী স্থায়ী পঙ্গুত্ব এবং চরম দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।