বুধবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ:
গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে সরকার সব ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশে ইইউ’র নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা মহান বিজয় দিবস আজ নির্বাচনকালীন সহিংসতা প্রতিরোধে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বিজয় দিবসে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ অর্ধেকের বেশি খেলাপি ঋণ ১৭ ব্যাংকে, বছর ঘুরতেই দ্বিগুণ হলো খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ এবার বাজারে আনছে টয়োটা হায়েস, নতুন পার্টনারশিপের উদ্বোধন চট্টগ্রামে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি সন্তোষজনক: ড. সালেহউদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হল নির্মাণ কাজ শিগগিরই শুরু হচ্ছে

মার্কিন শুল্কে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে বড় আঘাত, ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের ইঙ্গিত

ঢাকা, ১২ জুলাই: নতুন মার্কিন শুল্কারোপের কারণে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পোশাক রপ্তানি খাত বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ কেবল অর্থনৈতিক বিবেচনাপ্রসূত নয়, বরং বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ, বিশেষ করে চীনকে ঘিরে, এর পেছনে কাজ করছে।

আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হলো প্রস্তাবিত ‘রুলস অফ অরিজিন’ (RoO), যা আমেরিকান বাজারে পণ্য প্রবেশের জন্য পণ্যের মোট মূল্যের ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করবে। ব্যবসায়ীদের মতে, এই শর্ত সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানিতে চীনা উপকরণের ওপর অত্যাধিক নির্ভরতাকে লক্ষ্য করে চাপানো হয়েছে, যা চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের বৃহত্তর কৌশলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

প্রস্তাবিত RoO বাংলাদেশের জন্য, বিশেষ করে ওভেন পোশাক খাতের জন্য, একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই খাতটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির একটি প্রধান অংশ। আমেরিকান ভোক্তাদের জন্য তৈরি ট্রাউজার এবং শার্টের মতো পণ্যের জন্য প্রয়োজনীয় ওভেন ফ্যাব্রিকের প্রায় ৭০ শতাংশ চীন থেকে আসে। এটি নিটওয়্যার খাতের সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে স্থানীয় স্পিনাররা প্রয়োজনীয় ফ্যাব্রিকের প্রায় ৯০ শতাংশ সরবরাহ করতে পারে, ফলে চীনা আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেক কম।

বাংলাদেশ দ্রুত চীনা পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে সক্ষম নয়, বিশেষ করে ওভেন খাতে, যেখানে স্থানীয় ফ্যাব্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ার কারণে চীন থেকেই প্রধানত ফ্যাব্রিক সরবরাহ করা হয়।

বাণিজ্যিক বিষয়াদির বাইরেও, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে আমেরিকান বিনিয়োগের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় শিল্পে চীনা পুঁজির ক্রমবর্ধমান প্রবাহ ও মালিকানা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়, তাহলে পোশাক খাত “বড় সমস্যায়” পড়বে।

খান সতর্ক করে বলেন, “কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে, আবার কিছু কারখানা অন্য বাজারে যাওয়ার চেষ্টা করবে। ফলস্বরূপ, মার্কিন শুল্কের প্রভাবে অন্য বাজারেও প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন যে, মার্কিন বাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের বর্তমানে ৪০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের ক্ষমতা রয়েছে। তবে তিনি যোগ করেন, “যদিও মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ৮.৭৬ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি কোনো একক দেশের পক্ষে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়, তবে ধীরে ধীরে ক্রেতারা কম খরচের দেশগুলোর দিকে সরে যাবে।”

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম নিশ্চিত করেছেন যে সরকার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুল্কের বিষয়টি কেবল বাণিজ্যের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং এটি ভূ-রাজনৈতিক বিষয়সহ আরও অনেক বিস্তৃত।

তিনি আরও বলেন, “মার্কিন নীতির জন্য বা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নমনীয় নীতির জন্য বাংলাদেশ তার ৪২ বিলিয়ন ডলারের অন্যান্য রপ্তানি বাজার হারাতে পারে না।”

হাতেম মার্কিন শুল্কের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারে প্রতি পোশাক এবং অন্যান্য ব্যবসার জন্য অভ্যন্তরীণ সুবিধা বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন। তিনি প্রণোদনার অনুপাত বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান প্রণোদনা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়াও, হাতেম ঋণ শ্রেণিবিন্যাস নীতি শিথিল করা, ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো এবং রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (EDF) বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, যাতে ব্যবসার মালিকরা রপ্তানি চালানের প্রস্তুতির জন্য স্বল্পমেয়াদী ঋণ সহায়তা পেতে পারেন।

তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, বর্তমান সরকারি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগুলো ব্যবসা, বিশেষ করে রপ্তানি খাতকে বিরূপভাবে প্রভাবিত করছে।