শুক্রবার ১৩ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাড়ল ডলারের দাম, আমদানিতে ১২৩ টাকা ঈদে ডিজিটাল লেনদেন নিরবচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের<gwmw style="display:none;"></gwmw> দেশের মানুষ দূর্নীতি ও চাঁদাবাজি মুক্ত সূশাসন দেখতে চায়: মুফতি আমির হামযা বিদেশি বিনিয়োগের মুনাফা ও মূলধন ফেরতে কড়াকড়ি শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক<gwmw style="display:none;"></gwmw> অনিয়ম রোধে ৪ বেসরকারি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ প্রশমনের আহ্বান চীনের বিশেষ দূতের কক্সবাজার সৈকতের সব অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খল করার উপায় খুঁজে বের করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ঋণ নয় মালিকানানির্ভর শিল্পায়ন চায় সরকার: অর্থ উপদেষ্টা

ব্যাংকিং খাতে তারল্য স্বাভাবিক রাখতে ৯ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সম্ভাব্য অর্থসংকট মোকাবিলা এবং তারল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন আর্থিক উপকরণের মাধ্যমে ৯ হাজার ১৭৮ কোটি টাকার বেশি নগদ অর্থ বাজারে সরবরাহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন লেনদেন পরিচালনা, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া এবং গ্রাহকদের নগদ টাকার চাহিদা মেটানো সহজ হবে।

অর্থ সরবরাহের উৎস ও পদ্ধতি বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত রেপো (Repo) নিলাম, ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য বিশেষ তহবিল এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির মাধ্যমে এই অর্থ বাজারে প্রবাহিত হয়েছে।

একদিনের রেপো: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদি নগদ অর্থের প্রয়োজন মেটাতে একদিন মেয়াদী ‘সেন্ট্রাল ব্যাংক রেপো’র মাধ্যমে ৭ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো ১০ শতাংশ সুদে এই অর্থ গ্রহণ করেছে, যা বাজারে তাৎক্ষণিক নগদ প্রবাহ নিশ্চিত করেছে।

ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য সহায়তা: শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট কাটাতে ‘ইসলামি ব্যাংকস লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি’র (আইবিএলএফ) আওতায় ১৪ ও ২৮ দিন মেয়াদে মোট ৭৪৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে পূর্বের মেয়াদের কিছু অর্থ ফেরত আসায় এই খাতে নিট তারল্য প্রবাহ ৩৮৩ কোটি টাকা কমেছে।

স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি: অতিরিক্ত তারল্য ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক একদিনের জন্য ১ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা জমা নিয়েছিল। তবে আগের মেয়াদের ৩ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা ব্যাংকগুলোকে ফেরত দেওয়ায় নিটভাবে ১ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা পুনরায় বাজারে ফিরে এসেছে।

কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ? সবগুলো উপকরণ মিলিয়ে নিটভাবে মোট ৯,১৭৮.৯০ কোটি টাকা বাজারে ইনজেক্ট করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এই পদক্ষেপ ব্যাংকিং খাতের ওপর চলমান চাপ কমাতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে: ১. মেয়াদপূর্তির আমানত (Matured Deposits) পরিশোধে ব্যাংকগুলো সক্ষম হবে। ২. চাকুরিজীবীদের বেতন ও ভাতা সময়মতো পরিশোধ সহজ হবে। ৩. এলসি (LC) বা ঋণপত্র নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ নিশ্চিত হবে। ৪. ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন সাধারণ লেনদেনে গতি ফিরবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা হলেও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী বাজারে অর্থপ্রবাহ সমন্বয় করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন