বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
জুলাইয়ের প্রথম ২১ দিনে প্রবাসী আয় ২৩.৫% বেড়ে ২০৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার ২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি ০.৬৩% কমে ১৯.৩৪ বিলিয়ন ডলার: ইপিবি আমানতকারীরাই ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিক: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পোশাক রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে ৬ দফা রোডম্যাপ; শিল্পে জ্বালানি নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার: মাহদী আমিন হস্তশিল্প খাতের উন্নয়নে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও বাংলাক্রাফটের সমঝোতা স্মারক সই ‘হেয়ারকাট’ বাতিল ও মুনাফাসহ আমানত ফেরতের রোডম্যাপ চান সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা ব্যাসেল-৩: ব্যাংকের ‘এনএসএফআর’ রিপোর্টিং কাঠামো সংশোধন করল বাংলাদেশ ব্যাংক এলডিসি–পরবর্তী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাকশিল্পে এআই ও প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ নিরাপদ ও ভোগান্তিহীন লেনদেন নিশ্চিতে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক: গভর্নর

‘বৈসাবি’উৎসব বাঙালী পাহাড়িদের মধ্যে কিভাবে এলো?

ঢাকা, এপ্রিল ১২:- বৈসাবি উৎসব কোনো একক গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মধ্যে হঠাৎ করে আসেনি। এটি মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি প্রধান পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর – ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ এবং চাকমাদের ‘বিজু’ – এই তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সমন্বয়ে গঠিত একটি সম্মিলিত উৎসব।

অতীতে এই তিনটি জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র ঐতিহ্য ও রীতি-নীতি অনুযায়ী নববর্ষ উদযাপন করত। সময়ের সাথে সাথে এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগের ফলে এই উৎসবগুলো একে অপরের কাছাকাছি আসতে শুরু করে। বিশেষ করে, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে এই জাতিগোষ্ঠীগুলো বুঝতে পারে যে তাদের উৎসবের মূল spirit একই – পুরাতন বছরকে বিদায় জানানো এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানানো।

পরবর্তীতে, সম্ভবত গত শতাব্দীর শেষ দিকে (আনুমানিক ১৯৮০-এর দশকে), এই তিনটি উৎসবকে সম্মিলিতভাবে “বৈসাবি” নামে উদযাপন করার একটি ধারণা জন্ম নেয়। এই নামটি তিনটি উৎসবের প্রথম অক্ষরগুলো নিয়ে তৈরি করা হয়: বৈসু (ত্রিপুরা), সাংগ্রাই (মারমা), এবং বিজু (চাকমা)।

এই একত্রীকরণের প্রধান কারণগুলো ছিল:

  • সাংস্কৃতিক ঐক্য সংহতি: পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য ও ভাতৃত্ববোধ জোরদার করা।
  • বৃহত্তর উদযাপন: সম্মিলিতভাবে উদযাপনের মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ ও তাৎপর্য বৃদ্ধি করা এবং বৃহত্তর পরিসরে নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরা।
  • পরিচয় প্রতিষ্ঠা: একটি সম্মিলিত উৎসবের মাধ্যমে নিজেদের স্বতন্ত্র পাহাড়ি জাতিসত্তার পরিচয়কে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করা।

সুতরাং, “বৈসাবি” উৎসব কোনো একক গোষ্ঠী থেকে আসেনি, বরং এটি তিনটি প্রধান পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উদযাপনের সংস্কৃতির একটি সমন্বিত রূপ, যা সময়ের সাথে সাথে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ঐক্যের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। এটি এখন পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বৃহত্তম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

অনেকের মনে করেন, পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রয়োজনেই বৈসাবি শব্দটি এসেছে।

জানা গেছে, পাহাড়ের বর্ষবিদায় ও বরণ উপলক্ষে ১৯৮৭ সালে রাঙামাটি কলেজে একটি দেয়ালিকা প্রকাশিত হয়। পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উৎসবের নামের আদ্যক্ষর দিয়ে ‘বৈসাবি’ নামকরণ করা হয় দেয়ালিকাটির। ওই নামটি পরে পাহাড়ি বিভিন্ন সংগঠনের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

সামরিক শাসনের সেই সময়ে কোনো সংগঠনের নামে উৎসব, শোভাযাত্রা করা সম্ভব ছিল না। এ জন্য পাহাড়ের সব জাতিগোষ্ঠীকে একই সাংস্কৃতিক সংহতির গাঁথুনিতে নিয়ে আসার জন্য ‘বৈসাবি’ নামে প্ল্যাটফরম করা হয়েছিল।