সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস: ক্যাব মার্চের প্রথম ১৪ দিনেই এলো ২২০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স<gwmw style="display:none;"></gwmw> ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সীমা বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা করল বাংলাদেশ ব্যাংক পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী বিদেশি গ্যারান্টিতে ঋণ নিতে লাগবে না বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি সংকট নিরসনে বেসরকারিভাবে তেল আমদানির অনুমতি চায় পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ঝুঁকিতে ১৩.৫ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স; ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বাড়ল ডলারের দাম, আমদানিতে ১২৩ টাকা ঈদে ডিজিটাল লেনদেন নিরবচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের<gwmw style="display:none;"></gwmw>

‘বৈসাবি’উৎসব বাঙালী পাহাড়িদের মধ্যে কিভাবে এলো?

ঢাকা, এপ্রিল ১২:- বৈসাবি উৎসব কোনো একক গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মধ্যে হঠাৎ করে আসেনি। এটি মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি প্রধান পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর – ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ এবং চাকমাদের ‘বিজু’ – এই তিনটি ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সমন্বয়ে গঠিত একটি সম্মিলিত উৎসব।

অতীতে এই তিনটি জাতিগোষ্ঠী তাদের নিজস্ব স্বতন্ত্র ঐতিহ্য ও রীতি-নীতি অনুযায়ী নববর্ষ উদযাপন করত। সময়ের সাথে সাথে এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক যোগাযোগের ফলে এই উৎসবগুলো একে অপরের কাছাকাছি আসতে শুরু করে। বিশেষ করে, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে এই জাতিগোষ্ঠীগুলো বুঝতে পারে যে তাদের উৎসবের মূল spirit একই – পুরাতন বছরকে বিদায় জানানো এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানানো।

পরবর্তীতে, সম্ভবত গত শতাব্দীর শেষ দিকে (আনুমানিক ১৯৮০-এর দশকে), এই তিনটি উৎসবকে সম্মিলিতভাবে “বৈসাবি” নামে উদযাপন করার একটি ধারণা জন্ম নেয়। এই নামটি তিনটি উৎসবের প্রথম অক্ষরগুলো নিয়ে তৈরি করা হয়: বৈসু (ত্রিপুরা), সাংগ্রাই (মারমা), এবং বিজু (চাকমা)।

এই একত্রীকরণের প্রধান কারণগুলো ছিল:

  • সাংস্কৃতিক ঐক্য সংহতি: পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য ও ভাতৃত্ববোধ জোরদার করা।
  • বৃহত্তর উদযাপন: সম্মিলিতভাবে উদযাপনের মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ ও তাৎপর্য বৃদ্ধি করা এবং বৃহত্তর পরিসরে নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরা।
  • পরিচয় প্রতিষ্ঠা: একটি সম্মিলিত উৎসবের মাধ্যমে নিজেদের স্বতন্ত্র পাহাড়ি জাতিসত্তার পরিচয়কে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করা।

সুতরাং, “বৈসাবি” উৎসব কোনো একক গোষ্ঠী থেকে আসেনি, বরং এটি তিনটি প্রধান পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উদযাপনের সংস্কৃতির একটি সমন্বিত রূপ, যা সময়ের সাথে সাথে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও ঐক্যের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে। এটি এখন পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং বৃহত্তম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

অনেকের মনে করেন, পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রয়োজনেই বৈসাবি শব্দটি এসেছে।

জানা গেছে, পাহাড়ের বর্ষবিদায় ও বরণ উপলক্ষে ১৯৮৭ সালে রাঙামাটি কলেজে একটি দেয়ালিকা প্রকাশিত হয়। পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর উৎসবের নামের আদ্যক্ষর দিয়ে ‘বৈসাবি’ নামকরণ করা হয় দেয়ালিকাটির। ওই নামটি পরে পাহাড়ি বিভিন্ন সংগঠনের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

সামরিক শাসনের সেই সময়ে কোনো সংগঠনের নামে উৎসব, শোভাযাত্রা করা সম্ভব ছিল না। এ জন্য পাহাড়ের সব জাতিগোষ্ঠীকে একই সাংস্কৃতিক সংহতির গাঁথুনিতে নিয়ে আসার জন্য ‘বৈসাবি’ নামে প্ল্যাটফরম করা হয়েছিল।