শনিবার ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
‘লকড অ্যান্ড লোড’ থেকে আকস্মিক বিরতি: ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের রণকৌশল বদলের নেপথ্যে কেউ বিএনপিকে দমিয়ে রাখতে পারবে না : তারেক রহমান অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচার চালাতে পারবে : বদিউল আলম মজুমদার প্রতিযোগিতামূলক বাজারেও ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৮ বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে জুলাই যোদ্ধাদের ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ সংক্রান্ত সব কর্মকাণ্ডে পূর্ণ ‘দায়মুক্তি’ গণভোটে প্রচারণা সংস্কারের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের অংশ : আসিফ নজরুল প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে সপরিবারে সাক্ষাৎ করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারিক রহমান ব্যাংকিং খাতে তারল্য স্বাভাবিক রাখতে ৯ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক একীভূত হওয়া ৫ ব্যাংকের আমানতকারীরা ২ বছর কোনো মুনাফা পাবেন না: গভর্নর

বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব: ২০২৫ সালের গ্লোবাল সার্ভেতে ইতিবাচক প্রতিফলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০২৫ সালের বৈশ্বিক অস্থিরতা ও পরিবর্তনের মাঝেও বিশ্ব অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতিতে চীনের প্রভাব আরও সুসংহত ও ইতিবাচক হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক ‘২০২৫ গ্লোবাল সার্ভে অন ইমপ্রেশন অ্যান্ড আন্ডারস্ট্যান্ডিং অফ চায়না’ শীর্ষক জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ আগামী ১০ বছরে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা নিয়ে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।

বিশেষ করে চীনা সংস্কৃতি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বিশ্ব শাসনে (Global Governance) চীনের সংস্কারমূলক ভূমিকার প্রতি বিশ্ববাসীর প্রবল আগ্রহ ও প্রত্যাশা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

‘আত্মবিশ্বাস’ ও ‘স্থিতিস্থাপকতা’: চীনের অগ্রযাত্রার মূলমন্ত্র আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা চীনের বর্তমান অবস্থাকে ব্যাখ্যা করতে ‘আত্মবিশ্বাস’, ‘ধৈর্য’ এবং ‘স্থিতিস্থাপকতা’—এই তিনটি শব্দ ব্যবহার করছেন। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্য শুল্কের (Tariff Tsunami) অপ্রত্যাশিত ধাক্কা সত্ত্বেও চীন তার অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। চলতি বছরে চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি গত তিন প্রান্তিকে ৫.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং দেশটির মোট অর্থনৈতিক উৎপাদন প্রায় ১৪০ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিতে বিশ্বনেতৃত্ব জরিপ ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীন প্রথমবারের মতো বিশ্বের শীর্ষ ১০টি উদ্ভাবনী অর্থনীতির একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা এআই প্যাটেন্টের ক্ষেত্রে এককভাবে বিশ্বের মোট প্যাটেন্টের ৬০ শতাংশই এখন চীনের দখলে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা অর্জনই চীনকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে।

চীন-মার্কিন সম্পর্ক ও বিশ্ব শান্তি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্বের বৃহত্তম উন্নত দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে চীনের নিজস্ব উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বিশ্বশান্তির জন্য অপরিহার্য। চীন বারবার স্পষ্ট করেছে যে, কাউকে চ্যালেঞ্জ করা বা কারো স্থলাভিষিক্ত হওয়া তাদের লক্ষ্য নয়। বরং নিজেদের উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের সুফল বিশ্বের সাথে ভাগ করে নেওয়াই তাদের মূল নীতি। আগামী দশকে চীনের মধ্যম আয়ের জনসংখ্যা ৮০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে, যা বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে গতিশীল ভোক্তা বাজারে পরিণত হবে।

উপসংহার বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং বৃহত্তম ম্যানুফ্যাকচারিং দেশ হিসেবে চীন তার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবিচল। বহির্বিশ্বের পরিবর্তন যাই হোক না কেন, চীন উচ্চমানের উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে প্রতিবেদনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।