শুক্রবার ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
সর্বশেষ:
কর্পোরেট বোর্ডে নারী পরিচালকদের শক্তিশালী অবস্থান, তবুও পিছিয়ে তালিকাভুক্ত কোম্পানি জনতা ব্যাংকের ৯,৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ১৬৩ জনের বিরুদ্ধে ৫ মামলা দুদকের রিজওয়ানা হাসান তথ্য, আসিফ নজরুল ক্রীড়া ও আদিলুর এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে  মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ, আহতদের ৫ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট  চীনা উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিজিএমইএ নেতাদের বৈঠক: বাংলাদেশে বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণ ব্যাংক রেজোলিউশন ফ্রেমওয়ার্ক ছাড়া অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকিতে: সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা ফের ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো রিজার্ভ: স্থিতিশীলতা ফেরাতে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী নির্বাচনে ধানের শীষকে জেতাতে হবে; এর কোনো বিকল্প নেই: তারেক রহমান

বাংলাদেশের নারীরা পুরুষদের চেয়ে চার গুণ বেশি অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজ করেন :বিআইডিএস

ঢাকা, ২৫ আগস্ট : বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশের নারীরা পুরুষদের চেয়ে চার গুণ বেশি অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজ করেন।

সোমবার (২৫ আগস্ট) বিআইডিএস-এর অডিটোরিয়ামে ‘কেয়ার রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড উইমেন’স ওয়ার্ক ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।

সাজেদা ফাউন্ডেশনের সিনিয়র রিসার্চ অ্যাডভাইজার সাজেদা আমিন সেমিনারে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। গবেষণায় দেখা যায়, বিশেষ করে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে এই বৈষম্য সবচেয়ে বেশি। এই বয়সী নারীরা সপ্তাহে গড়ে ২০ ঘণ্টা অবৈতনিক কাজ করেন, যেখানে একই বয়সী পুরুষেরা করেন মাত্র ৫ ঘণ্টা।

গবেষণায় বলা হয়েছে যে নারী শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে গৃহস্থালি কাজের অসম দায়িত্ব, যেমন- শিশু যত্ন, ঘর ব্যবস্থাপনা এবং অসুস্থ বা বয়স্কদের সেবা, একটি প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করে।2 এই দায়িত্বগুলো নারীদের অর্থনৈতিক ফলাফলের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে এবং শ্রমের গভীর-মূলীঙ্গিত লিঙ্গ বিভাজন তুলে ধরে।

গবেষণার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারীদের বাড়ির কাছাকাছি কাজ করার প্রবণতার প্রধান কারণ তাদের সেবাযত্ন সম্পর্কিত দায়িত্ব। এর ফলে, সাম্প্রতিক সময়ে নারী শ্রমশক্তিতে যে বৃদ্ধি দেখা গেছে, তা মূলত সেইসব কাজে সীমাবদ্ধ, যা বাড়ি থেকে করা যায়।

গবেষণায় গ্রামীণ ও শহুরে এলাকার মধ্যে একটি লক্ষণীয় পার্থক্য পাওয়া যায়। গ্রামীণ এলাকায় কৃষিভিত্তিক ও অনানুষ্ঠানিক কাজের সুযোগ সহজে পাওয়া যায় বলে সেখানে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে, কিন্তু শহুরে এলাকায় তা কমছে। এই ফলাফল থেকে বোঝা যায় যে, নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে শুধু আনুষ্ঠানিক খাতকে লক্ষ্য না করে বরং অনানুষ্ঠানিক খাত এবং গিগ ইকোনমিকে (Gig economy) সমর্থন করার ওপর মনোযোগ দেওয়া উচিত।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. এ. কে. এনামুল হক। তিনি নারী কর্মীদের একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পোশাক খাতের নারী কর্মীদের প্রায়ই কর্মস্থলে পৌঁছাতে এক কিলোমিটারের বেশি পথ হাঁটতে হয়। এই দীর্ঘ পথের কারণে তারা কারখানার ভেতরের দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের নিয়ে যেতে পারেন না। ড. হক পরামর্শ দেন, কর্মস্থল যদি বাড়ির কাছাকাছি হতো, তবে এই দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলো আরও বেশি ব্যবহৃত হতো।

বিআইডিএস-এর সাবেক গবেষণা পরিচালক রুশিদান ইসলাম রহমান নারীদের জন্য আরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, কর্মসংস্থান কম তৈরি হচ্ছে এবং যে সুযোগ তৈরি হচ্ছে, সেগুলোর বেশিরভাগই পুরুষরা দখল করে নিচ্ছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, প্রযুক্তির মতো আধুনিক খাতে নারীদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করা উচিত।

সেমিনারে বিআইডিএস-এর গবেষক ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইউএন উইমেনের ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ নবানিতা সিনহা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।