শুক্রবার ৯ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
সিএমএসএমই খাতের ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল নভেম্বরের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশে সাশ্রয়ী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে আগ্রহী তুরস্ক, এফএসআরইউ ও এলএনজি খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব ক্যাশলেস স্বাস্থ্যসেবা প্রসারে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট চালু<gwmw style="display:none;"></gwmw> বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রির সম্ভাবনা যাচাই করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড জ্বালানি সংকটে থমকে যাচ্ছে অর্থনীতির গতি, দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের ট্যাক্স হ্যাভেনের দিন শেষ, বিশ্বজুড়ে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল বদলাচ্ছে: আইএমএফ আজকের ডিজিটালের ব্যবধান যেন আগামী দিনের এআই ডিভাইডে পরিণত না হয়: ইস্তাম্বুলে আইসিটি মন্ত্রী জাহাজশিল্পের বিশ্ববাজার ধরতে অনুমোদন সহজ করার উদ্যোগ, দ্রুত টিএসডিএফ স্থাপনের নির্দেশ ঢাকায় এলপিজির তীব্র সংকট, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম উপেক্ষা করে দেদারসে বাড়তি আদায়

প্যাকেজিং খাতকে বড় রপ্তানি শক্তিতে রূপান্তরে ব্যবসাবান্ধব নীতির দাবি: গ্যাপেক্সপো ২০২৬ সমাপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : দেশের টেকসই প্যাকেজিং ও এক্সেসরিজ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দ্রুত ব্যবসাবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন এবং একটি নির্বাচিত সরকারের সমর্থনের ওপর জোর দিয়েছেন শিল্প নেতা ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, সঠিক নীতি সহায়তা পেলে বর্তমানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি আয়ের এই খাতটি ভবিষ্যতে তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

শনিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত ‘গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং এক্সপো (গ্যাপেক্সপো) ২০২৬’ এবং ‘গার্মেন্ট টেকনোলজি বাংলাদেশ (জিটিবি) ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। চার দিনব্যাপী এই মেগা প্রদর্শনীটি যৌথভাবে আয়োজন করে এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেড এবং বিজিএপিএমইএ।

প্রবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী। তিনি এই খাতের অগ্রযাত্রায় উচ্চাশা প্রকাশ করে বলেন, “গত অর্থবছরে প্যাকেজিং ও এক্সেসরিজ খাত থেকে ৭.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে। এই খাতের উদ্যম ও সক্ষমতা অসাধারণ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে এই খাতের সকল পদ্ধতিগত সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবে।

বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, এই খাতটি অনেকটা ‘আন্ডাররেটেড’ বা অবমূল্যায়িত হলেও এটি আমাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত। কাঁচামাল আমদানি করে সেটিকে ফিনিশড গুডস হিসেবে পুনরায় রপ্তানি করার ক্ষমতা আমাদের সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। তিনি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে একটি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক সরকারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

বিদ্যমান সংকট ও নীতিনির্ধারণী উদ্বেগ

শিল্পের শীর্ষ নেতারা বর্তমান বাণিজ্য নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সতর্ক করে বলেন, ‘ফ্রি অফ কস্ট’ (এফওসি) আমদানির সুবিধা ১০০ শতাংশ করা হলে দেশীয় কারখানাগুলো টিকে থাকতে পারবে না, কারণ সব পণ্য তখন বিদেশ থেকে আসবে। তিনি বন্দরের অতিরিক্ত কর ও লেভি কমিয়ে ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বিজিএপিএমইএ-র সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, প্রকৃত ব্যবসায়ীরা দেশের সম্পদ বৃদ্ধিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি অর্থ পাচারকারীদের থেকে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের আলাদা করে দেখার আহ্বান জানান।

বৈশ্বিক সুযোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিচালক আবু মোখলেছ আলমগীর হোসেন জানান, এবারের মেলা গত বছরের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি সফল হয়েছে। বিশ্ববাজারে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল প্যাকেজিং মার্কেটে বাংলাদেশের অংশ বাড়াতে শক্তিশালী পলিসি সাপোর্ট প্রয়োজন। তিনি জানান, এই খাতকে ‘প্রোডাক্ট অফ দি ইয়ার’ হিসেবে বিবেচনা করে এনবিআর-এর সঙ্গে বন্ড সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

মেলার সারসংক্ষেপ

গত ১৪ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৫তম গ্যাপেক্সপোতে ভারত, চীন, পাকিস্তান, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি এবং ইউএই-সহ বিভিন্ন দেশের ৩৫০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। মেলায় মোট ১,৫০০টি স্টল ছিল এবং আয়োজকদের মতে, মেলাটি লক্ষাধিক দর্শনার্থী পরিদর্শন করেছেন। সমাপনী দিনে সেরা ৮টি স্টলকে ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।