বুধবার ৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
জ্বালানি সংকটে থমকে যাচ্ছে অর্থনীতির গতি, দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের ট্যাক্স হ্যাভেনের দিন শেষ, বিশ্বজুড়ে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল বদলাচ্ছে: আইএমএফ আজকের ডিজিটালের ব্যবধান যেন আগামী দিনের এআই ডিভাইডে পরিণত না হয়: ইস্তাম্বুলে আইসিটি মন্ত্রী জাহাজশিল্পের বিশ্ববাজার ধরতে অনুমোদন সহজ করার উদ্যোগ, দ্রুত টিএসডিএফ স্থাপনের নির্দেশ ঢাকায় এলপিজির তীব্র সংকট, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম উপেক্ষা করে দেদারসে বাড়তি আদায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে মূল ভিত্তি ‘বিশ্বাস’: তানভীর শাহরিয়ার গনি পরিকল্পিত নগরায়ণে জেলা ও সিটি করপোরেশনে নতুন মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তীব্র সংকটের মাঝেই বাড়ল এলপিজির দাম, খুচরা বাজারে অস্থিরতা জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার: রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি

পোশাক শ্রমিকদের সর্বজনীন পেনশনে অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ প্রণোদনা ও বয়সসীমা ৫৫ করার দাবি বিজিএমইএর

ঢাকা, ০৫ সেপ্টেম্বর (বিডিইকোনমি) — সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের মাঝে আরও জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় করতে প্রথম দুই বছরের জন্য বিশেষ সরকারি প্রণোদনা প্রদান এবং পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পেনশনের বয়সসীমা ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর নির্ধারণের জোর দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ।

শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) আয়োজিত “সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক আলোচনা সভা”য় এ দাবি জানান সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন এবং সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পোশাক খাতের শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সর্বজনীন পেনশনের আওতায় আনা ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে। তবে শ্রমিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রথম দুই বছর সরকারি প্রণোদনা দেওয়া এবং অবসরকালীন বয়সসীমা ৫৫ বছর করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান, বিজিএমইএ-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান এবং সহ-সভাপতি মোঃ রেজোয়ান সেলিম।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান জানান, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী নাগরিকরা ব্যাংকের মাধ্যমে চাঁদা দিয়ে ৬০ বছর বয়স থেকে এই পেনশনের সুবিধা পাবেন। গ্রাহকের মৃত্যু হলে মনোনীত ব্যক্তি মুনাফাসহ জমা অর্থ ফেরত পাবেন। এছাড়া অর্থনৈতিক সংকটে চাঁদার পরিমাণ সমন্বয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পেনশন কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০২৬’-এর সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী ১০০ জনের বেশি শ্রমিক কর্মরত থাকা সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানে সর্বজনীন পেনশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিজিএমইএকে এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন এবং প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজনকে পেনশনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনায় বিজিএমইএ-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, পোশাক খাতের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে এই স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করা ও পরিচালনা করা চ্যালেঞ্জিং হলেও সরকারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। অন্যদিকে, সহ-সভাপতি মোঃ রেজোয়ান সেলিম বলেন, স্কিমের আকর্ষণীয় মুনাফার হার বিবেচনা করে শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় বিজিএমইএ সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবে।

বিজিএমইএর মহাসচিব মেজর জেনারেল ড. মোঃ সাহেদুল ইসলাম (অবঃ) স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সদস্য, পোশাক কারখানার মালিক, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।