সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
৩ মাস পর ইতিবাচক ধারায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিনিয়োগ তিন শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল আদ-দ্বীন হাসপাতাল বৃষ্টির অজুহাতে ঢাকার বাজারে কাঁচামরিচের দাম হু হু করে বাড়ছে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে বিনিয়োগে জোর সরকারের: শামা ওবায়েদ এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডে সরবরাহ তলানিতে: গভীর হচ্ছে গ্যাস সংকট, বাসাবাড়িতে হাহাকার অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ৭ হাজার: বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিভাগীয় মামলা ২ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সুইসটেল’ হোটেল হচ্ছে না, ৮০০ কোটি টাকায় ভবনটি কিনছে পূবালী ব্যাংক ইডিএফ ঋণের মেয়াদ বাড়িয়ে ২৭০ দিন করার সুযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন মাস্টার সার্কুলার জারি

নির্বাচনে নারী অংশগ্রহণে বড় ঘাটতি: মাত্র ৬২ জন নারী প্রার্থী টিকে আছেন ভোটের লড়াইয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্বের এক হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৩শ আসনে এখন পর্যন্ত মাত্র ৬২ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে আছেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫১টি রাজনৈতিক দলের অধিকাংশ দলই কোনো নারী প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ায় এই লিঙ্গবৈষম্য আরও প্রকট হয়েছে।

২০২৫ সালের ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’-এ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছিল যে, তারা অন্তত ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। তবে এই সমঝোতা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় অধিকাংশ দলই তা উপেক্ষা করেছে।

দলভিত্তিক নারী মনোনয়নের চিত্র ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে মাত্র ১৬টি দল নারী প্রার্থী দিয়েছে। বাকি ৩৫টি দল কোনো নারী সদস্যকে মনোনয়ন দেয়নি।

বিএনপি: সর্বোচ্চ ১৫ আসনে নারী প্রার্থী দিলেও বাছাই শেষে বর্তমানে তাদের টিকে থাকা নারী প্রার্থীর সংখ্যা ১১। খালেদা জিয়ার ৩টি আসনে মনোনয়নপত্র স্ক্রুটিনি না হওয়া এবং ফাতেমা খানমের (নাটোর-৩) আবেদন বাতিল হওয়ায় এই সংখ্যা কমেছে।

স্বতন্ত্র: ৩৭ জন স্বতন্ত্র নারী প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৫ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্যান্য দল: বাসদ (মার্কসবাদী) ৯ জন, জাসদ ও ইনসানিয়াত বিপ্লব ৬ জন করে এবং গণসংহতি আন্দোলন ও জাতীয় পার্টি ৫ জন করে নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ২,৫৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো ২,০২০ জন পুরুষকে মনোনয়ন দিলেও নারী প্রার্থী দিয়েছিল মাত্র ৬৮ জন—যা মোট দলীয় প্রার্থীর মাত্র ৩.২৫ শতাংশ।

বাছাইয়ের পর টিকে থাকা উল্লেখযোগ্য কয়েকজন নারী প্রার্থী হলেন: বিএনপি: ফারজানা শারমীন (নাটোর-১), রোমানা আহমেদ (মেহেরপুর-১), সাবেরা সুলতানা (যশোর-২), ইসরাত সুলতানা এলেন ভুট্টো (ঝালকাঠি-২), সানসিলা জেবরিন (শেরপুর-১), আফরোজা খানম (মানিকগঞ্জ-৩), সানজিদা ইসলাম (ঢাকা-১৪), শামা ওবায়েদ ইসলাম (ফরিদপুর-২), নায়াব ইউসুফ আহমেদ (ফরিদপুর-৩), নাদিরা আক্তার (মাদারীপুর-১) এবং তাহসিনা রুশদীর লুনা (সিলেট-২)। স্বতন্ত্র: সাবিনা ইয়াসমিন (নাটোর-২), মেহেরজান আরা তালুকদার (জামালপুর-৪), আক্তার সুলতানা (ময়মনসিংহ-৬), তাহমিনা জামান (নেত্রকোনা-৪) এবং রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২)।

বড় দলগুলোর অনিহা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (২৭৬ প্রার্থী) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (২৬৮ প্রার্থী) এর মতো বড় দলগুলো একজন নারীকেও মনোনয়ন দেয়নি। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদ ও এবি পার্টির নারী প্রতিনিধিত্বও ছিল অত্যন্ত নগণ্য।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের পাশাপাশি জুলাই ন্যাশনাল চার্টার বাস্তবায়নের ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।