শুক্রবার ১৭ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৫ শতাংশ হতে পারে: আইএমএফ<gwmw style="display:none;"></gwmw> আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকা ইপিজেডে শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রম ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করলেন আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আদালতের আদেশে বিএফআইইউর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক, সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট বেড়েছে ৭৪% পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী সৌদি আরব পুরনো মালিকদের হাতে ফিরল আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক<gwmw style="display:none;"></gwmw> গভর্নরের সাথে বিটিএমএ-র বৈঠক: বস্ত্র খাতের সংকট মোকাবিলায় নীতিগত সহায়তার দাবি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধির সভাপতিত্বে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

গাজা ও পশ্চিম তীরে ‘জাতিগত নিধন’ নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জেনেভা : ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ড ‘জাতিগত নিধনের’ (Ethnic Cleansing) শামিল হতে পারে বলে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর। বৃহস্পতিবার জেনেভায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ব্যাপক হামলা, ধ্বংসযজ্ঞ এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “পরিকল্পিতভাবে পুরো এলাকা ধ্বংস করা এবং মানবিক সহায়তায় বাধা দেওয়ার মূল লক্ষ্য হলো গাজার জনসংখ্যাগত কাঠামো স্থায়ীভাবে বদলে দেওয়া।”

দুর্ভিক্ষ ও মানবেতর জীবন

প্রতিবেদনে গাজায় নজিরবিহীন বেসামরিক মৃত্যু, দুর্ভিক্ষ এবং অবকাঠামো ধ্বংসের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়:

  • ক্ষুধায় মৃত্যু: মানবিক সহায়তায় ইসরায়েলি বিধিনিষেধের কারণে অন্তত ৪৬৩ জন ফিলিস্তিনি অনাহারে মারা গেছেন, যার মধ্যে ১৫৭ জনই শিশু।
  • বসবাসের অনুপযোগী: গাজার বর্তমান পরিস্থিতি ফিলিস্তিনিদের বেঁচে থাকার জন্য ‘ক্রমবর্ধমানভাবে অনুপযোগী’ হয়ে পড়েছে।
  • যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা: বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা বা নির্বিচারে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর বিষয়টি ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পশ্চিম তীরে দমন-পীড়ন

গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমেও পদ্ধতিগত বৈষম্য, নিপীড়ন এবং নিয়ন্ত্রণের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বেআইনিভাবে শক্তি প্রয়োগ, নির্বিচারে আটক এবং ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ইসরায়েলি হেফাজতে ৭৯ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন এবং গাজা থেকে আটককৃতরা চরম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

জিম্মি পরিস্থিতি

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর আটককৃত ইসরায়েলি ও বিদেশি জিম্মিদের এখনও হামাসসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী আটকে রেখেছে। জিম্মিদের ওপর নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের সাক্ষ্যও নথিবদ্ধ করেছে জাতিসংঘ।

‘অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের’ আহ্বান

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেছেন, “বিচারহীনতার সংস্কৃতি ধ্বংস ডেকে আনে।” তিনি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দেশগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, “গাজা পুনর্গঠনের ভিত্তি হতে হবে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।”

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হামলা

উল্লেখ্য যে, গত ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় একটি মার্কিন সমর্থিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। দুই বছরের দীর্ঘ যুদ্ধে গাজায় ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। তবে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সময়েও ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণে ৬০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া পশ্চিম তীরে একই সময়ে অন্তত ১,১১২ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।

আরও পড়ুন