বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ:
নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ স্লোগানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে টেলিনর সিইও-র সাক্ষাৎ জ্বালানি সাশ্রয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত: ৩ মাস সরকারি তেল নেবেন না মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম নারীদের ডিজিটাল ও আর্থিক ক্ষমতায়নে রমণীর সাথে বাংলালিংকের অংশীদারিত্ব জ্বালানি সংকটে তৈরি পোশাক উৎপাদন ২৫-৩০ শতাংশ হ্রাস; বিজিএমইএ’র জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি<gwmw style="display:none;"></gwmw> মানি মার্কেটে লেনদেন-ভিত্তিক রেফারেন্স রেট চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক রেজুলেশন আইন দুর্নীতির সহায়ক ও লুটেরাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ: টিআইবি কৃষিখাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই কৃষক কার্ডের লক্ষ্য : মাহদী আমিন<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে আলতাফ হুসাইনের দায়িত্ব গ্রহণ

এলডিসি উত্তরণের পরেও বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে ডব্লিউটিও: নিশ্চিত করলেন উপ-মহাপরিচালক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পরও বাংলাদেশকে সমর্থন ও কারিগরি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রার প্রস্তুতিকালে সংস্থাটি তার পাশে থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন ডব্লিউটিওর উপ-মহাপরিচালক শিয়াংচেন ঝাং (Xiangchen Zhang)

বাসসকে দেওয়া এক অনলাইন সাক্ষাৎকারে শিয়াংচেন ঝাং বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরেও বাংলাদেশ ডব্লিউটিওর কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ সুবিধাগুলো পেতে থাকবে।

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ডব্লিউটিওর বিভিন্ন বহুমুখী কার্যক্রম থেকে উপকৃত হচ্ছে। সংস্থাটি অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে উন্নয়নশীল অর্থনীতির বাণিজ্য সক্ষমতা জোরদার করতে কাজ করে।

🛠️ ‘ইআইএফ’-এর সুবিধা থাকবে আরও পাঁচ বছর

উপ-মহাপরিচালক এনহেন্স ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (EIF) প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ এই কাঠামোর একটি প্রধান সুবিধাভোগী, যা এলডিসিভুক্ত দেশগুলোকে বৈশ্বিক বাণিজ্যে আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে সহায়তা করে।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, EIF বর্তমানে এর তৃতীয় ধাপে রূপান্তরিত হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এলডিসি থেকে উত্তরণের পরেও বাংলাদেশ আরও পাঁচ বছর EIF সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। EIF-এর সহায়তায় বাংলাদেশ সফলভাবে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং তৈরি পোশাক খাতকে উন্নত করতে বহুমুখী কৌশল তৈরি করেছে।

শীর্ষ সুবিধাভোগী বাংলাদেশ

আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে শিয়াংচেন ঝাং নিশ্চিত করেন, বাংলাদেশ ডব্লিউটিওর ‘এইড ফর ট্রেড ইনিশিয়েটিভ’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাভোগী। এই উদ্যোগ উন্নয়নশীল অর্থনীতিকে তাদের বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

  • ২০০৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ এই উদ্যোগের শীর্ষ ১০ সুবিধাভোগীর মধ্যে ছিল
  • এই সময়ে দেশটি মোট ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা পেয়েছে।

ঝাং আরও বলেন, বাংলাদেশ ডব্লিউটিও-সংক্রান্ত শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো বজায় রেখেছে। বিশেষত বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটে (BFTI) একটি ডব্লিউটিও রেফারেন্স সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে, যা নথি ও বাণিজ্য সম্পর্কিত তথ্যের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে।

উত্তরণের পর নতুন কৌশল প্রয়োজন

তবে, শিয়াংচেন ঝাং সতর্ক করে বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য একটি প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে ডব্লিউটিওতে তার সম্পৃক্ততার কৌশল

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এতদিন মূলত এলডিসি গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হিসেবে অংশগ্রহণ করেছে। উত্তরণের পর দেশটিকে তার কার্যপদ্ধতি মানিয়ে নিতে হবে। এক্ষেত্রে, বিভিন্ন স্তরের উন্নয়নশীল ডব্লিউটিও সদস্যদের সঙ্গে কৌশলগত জোট গঠনে মনোযোগ দিতে হবে।

বাংলাদেশ ১৯৯৫ সাল থেকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য। ২০২৬ সালের এই উত্তরণ দেশটির বাণিজ্য নীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সুযোগও বয়ে আনবে। প্রতিযোগিতামূলক থাকতে বাংলাদেশ এখন রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এবং আঞ্চলিক চুক্তিগুলোতে (যেমন RCEP) যোগদানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।