ঢাকা, ১৯ আগস্ট (বিডিইকোনমি) — কাস্টমসের অভিযানে উদ্ধার হওয়া চোরাচালানের সোনা, দুর্লভ মূর্তি কিংবা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা পণ্যের নমুনার পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অস্থায়ী জাদুঘরে স্থান পেয়েছে প্রায় চার শতাব্দী আগের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঐতিহাসিক দলিলের অনুলিপি। এসব দলিল কেবল রাজস্ব বিভাগের ইতিহাস নয়, বরং ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয় বণিকদের বাণিজ্যিক প্রবেশের ইতিহাসেরও গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করছে।
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এনবিআর আয়োজিত রাজস্ব সম্মেলন উপলক্ষে স্থাপিত এই অস্থায়ী জাদুঘরে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে ১৬০১ সালে ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথের দেওয়া একটি বাণিজ্য অনুমোদনের অনুলিপি। প্রায় ৪০০ বছর আগে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ভারতে বাণিজ্য পরিচালনার অনুমতি দিয়ে এই সনদ দেওয়া হয়েছিল।
ইংরেজ বণিকদের উপমহাদেশে বাণিজ্য বিস্তারের ইতিহাসে এই অনুমতিপত্রের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যের পথ ধরে কীভাবে ব্রিটিশ প্রভাব ভারতীয় উপমহাদেশে বিস্তৃত হয়েছিল, সেই দীর্ঘ ইতিহাসের সূচনাপর্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে এটি বিবেচিত হয়।
জাদুঘরে সংগৃহীত রয়েছে আরও একটি ঐতিহাসিক দলিলের অনুলিপি। ১৬১৫ সালে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর ইংরেজদের ভারতে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি দিয়ে যে সনদ দিয়েছিলেন, সেটির অনুলিপিও সেখানে প্রদর্শন করা হচ্ছে।
চার শতাব্দী আগের এসব বাণিজ্য অনুমোদন থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশের কাস্টমস ও রাজস্ব ব্যবস্থার নানা স্মারক—সব মিলিয়ে অস্থায়ী এই জাদুঘরটি দর্শনার্থীদের কাছে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও রাজস্ব ইতিহাসের এক অনন্য দলিল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।