শুক্রবার ১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ:
রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লম্ফন: এপ্রিলের ২৯ দিনেই এলো ৩০০ কোটি ডলার ইসলামী ব্যাংক খাতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি; বিতর্কিত সিদ্ধান্তে অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকারদের উদ্বেগ<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> প্রথম প্রান্তিকে সিটি ব্যাংকের মুনাফায় ১৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি; ঋণ প্রবাহ নিয়ে এমডির উদ্বেগ সার্ক শক্তিশালী হলে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি আরও সমৃদ্ধ হবে: নজরুল ইসলাম খান<gwmw style="display:none;"></gwmw> বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে নীতি সংস্কারের তাগিদ ব্যবসায়ী নেতাদের<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিতে কঠোর বিএফআইইউ: শীর্ষ কর্মকর্তাদের নৈতিক অঙ্গীকারনামা বাধ্যতামূলক অভিজ্ঞ ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য ডিপ্লোমা বাধ্যতামূলক নয়: নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেড় মাসে হামের উপসর্গে ২২৭ শিশুর মৃত্যু: ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ৮৮ আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের দাম ১২২.৭৫ টাকায় স্থিতিশীল

একীভূত ৫ ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা শুরুতে পাবেন ২ লাখ টাকা, পরের ৩ মাসে ১ লাখ টাকা

‘ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ফান্ড’ থেকে পরিশোধের জন্য বিশেষ স্কিম চূড়ান্ত; ডিসেম্বরের মধ্যেই অর্থ ফেরত প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ গভর্নরের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: চরম সংকটে থাকা পাঁচ শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ স্কিমের খসড়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই স্কিম অনুযায়ী, আমানতকারীরা প্রথমে ২ লাখ টাকা এবং এরপর প্রতি তিন মাস অন্তর ১ লাখ টাকা করে উত্তোলন করতে পারবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ইউএনবিকে জানান, প্রাথমিকভাবে এই টাকা ‘ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স ফান্ড’ (Deposit Insurance Fund) থেকে পরিশোধ করা হবে। এরপর, যে সব আমানতকারীর হিসাবে ২ লাখ টাকার বেশি জমা আছে, তারা পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা করে উত্তোলন করার সুযোগ পাবেন।

এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুরের সভাপতিত্বে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই স্কিমটি চূড়ান্ত করা হয়।

বৈঠকে নবগঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চারজন ডেপুটি গভর্নর, সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ ফেরত প্রক্রিয়া ও নতুন ব্যাংকের অবস্থা

নতুন ব্যাংকটির (সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি) ডাটাবেজ তৈরি এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) নিয়োগ না হওয়ায় বর্তমানে অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু আইনি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই সত্ত্বেও, গভর্নর মনসুর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা গ্রাহকদের অপ্রয়োজনে টাকা উত্তোলন করা থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করেছেন। তারা জোর দিয়েছেন যে যেহেতু নতুন ব্যাংকটি ‘মৌলিকভাবে সুদৃঢ়’, তাই টাকা তুলে নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। এই স্কিমের মূল লক্ষ্য হলো আমানতকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ধীরে ধীরে ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

সুবিধা পাওয়ার শর্তাবলী ও একীভূত ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই স্কিমের অধীনে টাকা উত্তোলনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্তাবলী নির্ধারণ করেছে। স্কিমের সুবিধা পেতে গ্রাহকদের যা নিশ্চিত করতে হবে:

  • জাতীয় আইডি কার্ড: অ্যাকাউন্টটি অবশ্যই বৈধ হতে হবে এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (National ID Card) বিপরীতে খোলা থাকতে হবে।
  • একাধিক অ্যাকাউন্ট: কোনো গ্রাহকের একটি ব্যাংকে একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকলে তিনি শুধুমাত্র একটি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে সুবিধা পাবেন।
  • একাধিক ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট: একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের প্রতিটিতে আলাদা অ্যাকাউন্ট থাকা গ্রাহক প্রতিটি অ্যাকাউন্টের জন্য আলাদাভাবে অর্থ পরিশোধের সুবিধা পাবেন।
  • ঋণ সমন্বয়: বকেয়া ঋণ রয়েছে এমন আমানতকারীরা, ঋণ সমন্বয় না হওয়া পর্যন্ত এই অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন না।

যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হচ্ছে, সেগুলো হলো: এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। পূর্ববর্তী সরকারের মেয়াদে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কথিত বিশাল ঋণ জালিয়াতি ও অনিয়মের কারণে ব্যাংকগুলো গভীর সংকটে পড়েছিল।

নতুন ব্যাংকের মূলধন ও আর্থিক চিত্র

‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’-এর অনুমোদিত মূলধন ৪০,০০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৩৫,০০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে (যার মধ্যে সরকার থেকে ২০,০০০ কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে ১৫,০০০ কোটি টাকা আসবে)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচ ব্যাংকে ৭৫ লাখ আমানতকারীর প্রায় ১.৪২ লাখ কোটি টাকা জমা রয়েছে। বিপরীতে, তাদের মোট ঋণের পরিমাণ ১.৯৩ লাখ কোটি টাকা, যার একটি বড় অংশ এখন খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত।

অপারেশনাল খরচ কমানোর জন্য নতুন ব্যাংকটি ইতোমধ্যে মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে অফিস নিয়েছে। কর্মী বেতন ও ভাতায় ২০ শতাংশ হ্রাস এবং একই এলাকায় একাধিক শাখা একীভূত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।