বুধবার ৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
জ্বালানি সংকটে থমকে যাচ্ছে অর্থনীতির গতি, দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের ট্যাক্স হ্যাভেনের দিন শেষ, বিশ্বজুড়ে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল বদলাচ্ছে: আইএমএফ আজকের ডিজিটালের ব্যবধান যেন আগামী দিনের এআই ডিভাইডে পরিণত না হয়: ইস্তাম্বুলে আইসিটি মন্ত্রী জাহাজশিল্পের বিশ্ববাজার ধরতে অনুমোদন সহজ করার উদ্যোগ, দ্রুত টিএসডিএফ স্থাপনের নির্দেশ ঢাকায় এলপিজির তীব্র সংকট, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম উপেক্ষা করে দেদারসে বাড়তি আদায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে মূল ভিত্তি ‘বিশ্বাস’: তানভীর শাহরিয়ার গনি পরিকল্পিত নগরায়ণে জেলা ও সিটি করপোরেশনে নতুন মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তীব্র সংকটের মাঝেই বাড়ল এলপিজির দাম, খুচরা বাজারে অস্থিরতা জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার: রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি

আগামীকাল ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার মেগা বাজেট পেশ করবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু

ঢাকা, ১০ জুন (বিডিইকোনমি): অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং আর্থিক খাতের সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এক বিশাল ও পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে নতুন সরকার। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে এই বাজেট পেশ করা হবে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে নতুন মেয়াদের প্রথম এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন।

উচ্চপর্যায়ের সরকারি সূত্রমতে, এই বিশাল সরকারি ব্যয় মেটাতে নতুন অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রধান খাত হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের বড় দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এনবিআর-বহির্ভূত কর খাত থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর-ব্যতীত রাজস্ব (এনটিআর) খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেটের বড় একটি অংশ ব্যয় হবে পূর্বের নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধ বা ডেট সার্ভিসিংয়ের পেছনে। সরকার শুধুমাত্র ঋণের সুদের দায় মেটাতেই ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের সুদ বাবদ গুনতে হবে ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির পরিমাণ প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকার আন্তর্জাতিক উৎস বা বৈদেশিক অর্থায়ন থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঘাটতি অর্থায়নে সরকার দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করবে। বাজেট ঘাটতি পূরণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ১ লাখ ১২Offset হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি পূরণ করা হবে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে।

সামষ্টিক অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, দেশের এই অর্থনৈতিক রূপান্তরকালীন সময়ে নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মূল্যস্ফীতি বা মূল্যবৃদ্ধির চাপ নিয়ন্ত্রণ করা। একই সাথে দেশীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি ব্যাহত না করে কীভাবে দক্ষতার সাথে রাজস্ব আদায় করা যায়, সেটিই হবে আগামী অর্থবছরের মূল পরীক্ষা।