শুক্রবার ৯ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
সিএমএসএমই খাতের ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল নভেম্বরের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশে সাশ্রয়ী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে আগ্রহী তুরস্ক, এফএসআরইউ ও এলএনজি খাতে সহযোগিতার প্রস্তাব ক্যাশলেস স্বাস্থ্যসেবা প্রসারে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ‘বাংলা কিউআর’ পেমেন্ট চালু<gwmw style="display:none;"></gwmw> বাংলাদেশে রিটেইল ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রির সম্ভাবনা যাচাই করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড জ্বালানি সংকটে থমকে যাচ্ছে অর্থনীতির গতি, দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের ট্যাক্স হ্যাভেনের দিন শেষ, বিশ্বজুড়ে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল বদলাচ্ছে: আইএমএফ আজকের ডিজিটালের ব্যবধান যেন আগামী দিনের এআই ডিভাইডে পরিণত না হয়: ইস্তাম্বুলে আইসিটি মন্ত্রী জাহাজশিল্পের বিশ্ববাজার ধরতে অনুমোদন সহজ করার উদ্যোগ, দ্রুত টিএসডিএফ স্থাপনের নির্দেশ ঢাকায় এলপিজির তীব্র সংকট, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম উপেক্ষা করে দেদারসে বাড়তি আদায়

আইএমএফের কাছে নতুন করে আর্থিক সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

ঢাকা, ৩ জুন (বিডিইকোনমি ডটনেট) — বাংলাদেশের চলমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে নতুন করে আর্থিক সহায়তার আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে বাংলাদেশ। বুধবার বৈশ্বিক এই ঋণদাতা সংস্থাটি এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনার জানান, বাংলাদেশের নতুন এই ঋণের অনুরোধকে কেন্দ্র করে দেশটির নীতিগত অগ্রাধিকার ও কাঠামোগত সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মিশন প্রধান উল্লেখ করেন, “২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদিত আইএমএফ-সমর্থিত কর্মসূচির আওতায় এক্সটেন্ডেড ক্রেডিটফ্যাসিলিটি (ইসিএফ), এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ) এবং রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বা পলিসি অ্যানকর হিসেবে কাজ করেছে।”

তবে আইএমএফ জোর দিয়ে বলেছে যে, ২০২৩ সালের কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং রাজস্ব আহরণের দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি সবচেয়ে বড় কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি

আইএমএফের ইঙ্গিত অনুযায়ী, সম্ভাব্য নতুন এই ঋণ কর্মসূচির আলোচনা মূলত দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং নতুন সরকারের কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলোকে বিবেচনায় রেখেই সাজানো হচ্ছে।

তবে ওয়াশিংটন-ভিত্তিক এই বহুপাক্ষিক ঋণদাতা সংস্থাটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যেকোনো নতুন ঋণ সুবিধা বা ক্রেডিট প্যাকেজ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য (বিওপি)-র প্রকৃত চাহিদা, শক্তিশালী নীতিগত প্রতিশ্রুতি এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির নির্ভরযোগ্যতার ওপর। আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার পর আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে এই ঋণ অনুমোদন করা হবে।

নতুন এই কর্মসূচির প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করতে আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল শীঘ্রই ঢাকা সফর করার পরিকল্পনা করছে। এই ‘স্টাফ ভিজিট’-এর মূল উদ্দেশ্য হবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা, নীতিগত অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মূল্যায়ন করা। এরপর পরবর্তী আনুষ্ঠানিক মিশনগুলোতে নতুন ঋণের মোট পরিমাণ, কিস্তির সংখ্যা এবং শর্তাবলীর বিস্তারিত বিষয়াদি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে।

বাংলাদেশকে সহায়তার বিষয়ে নিজেদের দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আইএমএফ জানিয়েছে, তারা টেকসই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, আর্থিক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের অংশীদার হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।