বুধবার ৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষ:
জ্বালানি সংকটে থমকে যাচ্ছে অর্থনীতির গতি, দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের ট্যাক্স হ্যাভেনের দিন শেষ, বিশ্বজুড়ে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল বদলাচ্ছে: আইএমএফ আজকের ডিজিটালের ব্যবধান যেন আগামী দিনের এআই ডিভাইডে পরিণত না হয়: ইস্তাম্বুলে আইসিটি মন্ত্রী জাহাজশিল্পের বিশ্ববাজার ধরতে অনুমোদন সহজ করার উদ্যোগ, দ্রুত টিএসডিএফ স্থাপনের নির্দেশ ঢাকায় এলপিজির তীব্র সংকট, সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম উপেক্ষা করে দেদারসে বাড়তি আদায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে মূল ভিত্তি ‘বিশ্বাস’: তানভীর শাহরিয়ার গনি পরিকল্পিত নগরায়ণে জেলা ও সিটি করপোরেশনে নতুন মাস্টারপ্ল্যান হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তীব্র সংকটের মাঝেই বাড়ল এলপিজির দাম, খুচরা বাজারে অস্থিরতা জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার: রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি

অর্থপাচারকারীদের ব্যাংকের বোর্ডে ফেরার সুযোগ নেই: বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগ থাকলে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে (বোর্ড) পুনরায় ফিরতে পারবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান ব্যাংক খাত সংস্কার সংক্রান্ত সাম্প্রতিক অধ্যাদেশের কিছু ধারা নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি নিরসনে এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, অতীতে অনিয়ম, ঋণ জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাংকিং খাতে পুনরায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান পরিষ্কার করেন আরিফ হোসেন খান।

তিনি বলেন, “অধ্যাদেশের কিছু ধারা নিয়ে গণমাধ্যমে যেভাবে তথ্য উপস্থাপিত হয়েছে, তা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিতর্কিত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগুলোর পুনরায় ব্যাংকের মালিকানা বা পরিচালনায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে কি না—এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”

অধ্যাদেশের ব্যাখ্যা দিয়ে মুখপাত্র জানান, সাবেক পরিচালক বা স্পন্সররা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ (সাড়ে ১২ শতাংশ) পরিশোধ করে মালিকানায় ফেরার আবেদন করার একটি বিধান রাখা হয়েছে। তবে এটি কোনোভাবেই ‘স্বয়ংক্রিয়’ বা ‘নির্বিচার’ সুযোগ নয়। পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর যাচাই-বাছাই এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে।

আরিফ হোসেন খান আরও জানান, কেউ যদি পুনরায় ব্যাংকের বোর্ডে ফিরতে চান, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছ থেকে অর্থপাচার বা সন্দেহজনক লেনদেন সংক্রান্ত রিপোর্ট সংগ্রহ করা হবে।

“যদি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ থাকে, তবে তাকে অবশ্যই আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সেই অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ দায়মুক্ত হতে হবে,” বলে তিনি জোর দিয়ে জানান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, শুধু অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়াই যথেষ্ট নয়; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধের ইতিহাসও পরীক্ষা করা হবে। বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ থাকলে তা নিয়ম অনুযায়ী সমন্বয় বা নিষ্পত্তি না করা পর্যন্ত তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

মুখপাত্র স্পষ্ট করে বলেন, নামে-বেনামে ঋণ গ্রহণ, ঋণের অপব্যবহার বা অর্থপাচারের মতো অভিযোগ থেকে যদি কোনো ব্যক্তি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হতে পারেন এবং সব আর্থিক দায়-দেনা পরিশোধ করেন, তবেই তাদের আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা বা ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই কঠোর অবস্থান ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। তবে বিতর্কিত গোষ্ঠীগুলোর পুনঃপ্রবেশ ঠেকাতে এই নীতিমালা বাস্তবে কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।