শুক্রবার ১৭ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৫ শতাংশ হতে পারে: আইএমএফ<gwmw style="display:none;"></gwmw> আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকা ইপিজেডে শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রম ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করলেন আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আদালতের আদেশে বিএফআইইউর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক, সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট বেড়েছে ৭৪% পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী সৌদি আরব পুরনো মালিকদের হাতে ফিরল আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক<gwmw style="display:none;"></gwmw> গভর্নরের সাথে বিটিএমএ-র বৈঠক: বস্ত্র খাতের সংকট মোকাবিলায় নীতিগত সহায়তার দাবি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধির সভাপতিত্বে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

অনিয়ম রোধে ৪ বেসরকারি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সুশাসন নিশ্চিত করা এবং স্বতন্ত্র পরিচালকদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেশের চারটি বড় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকগুলো হলো— ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত সপ্তাহে পরিচালক পদমর্যাদার চার কর্মকর্তাকে এই ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম তদারকির জন্য নিয়োগ দিয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে এসব ব্যাংকের আগের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে ব্যাংকগুলো পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক স্বতন্ত্র ও শেয়ারধারী পরিচালক নিয়োগ দিলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কিছু স্বতন্ত্র পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় অধিকতর তদারকির জন্য মূলত এই পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কঠোর নজরদারি নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকরা ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি এবং নিরীক্ষা কমিটির সকল সভায় উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র অনুযায়ী মনোনীত কর্মকর্তারা হলেন:

ন্যাশনাল ব্যাংক: ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট-১২-এর পরিচালক মুনির আহমেদ চৌধুরী।

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক: ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান।

প্রিমিয়ার ব্যাংক: পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের পরিচালক এ.এন.এম. মঈনুল কবির।

আইএফআইসি ব্যাংক: ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-১-এর পরিচালক এ.কে.এম. কামরুজ্জামান।

মালিকানা ও প্রেক্ষাপট আলোচিত এই চারটি ব্যাংকই বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী বিভিন্ন গোষ্ঠী ও ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে ছিল। ন্যাশনাল ব্যাংক পরিচালনা করত জয়নুল হক সিকদারের সিকদার গ্রুপ এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের নেতৃত্বে ছিলেন এইচ.বি.এম. ইকবালের প্রিমিয়ার গ্রুপ। অন্যদিকে, আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক তদারকি করতেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ।

একই ব্যাংকে স্বতন্ত্র পরিচালক এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষক—উভয়ের উপস্থিতি ব্যাংকিং খাতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে ঠিক কী বার্তা দিতে চাইছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।