ঢাকা, ১৫ জুলাই (বিডিইকোনমি) — আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পরিচালনার ভার আবার এর পুরনো মালিকদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ বুধবার (১৫ জুলাই) নতুন করে ১৪ জন উদ্যোক্তা-শেয়ারহোল্ডারকে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে পাঁচ সদস্যের একটি স্বতন্ত্র পরিচালক বডির অধীনে চলছিল ব্যাংকটি। এখন এই ১৪ জন যুক্ত হওয়ায় পরিচালনা পর্ষদের মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ১৯ জনে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন এস আলমের ভাই আব্দুস সামাদ লাবু।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক যে ১৬টি ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দিয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে আল-আরাফাহ ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় এখানে শেয়ারহোল্ডার-পরিচালকদের পুনরায় যুক্ত করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, অন্যান্য যেসব ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তাদের উদ্যোক্তাদের অনেককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আল-আরাফাহ ব্যাংকের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন ছিল, আর এ কারণেই ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ তাদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নতুন পর্ষদে যারা যুক্ত হলেন
নতুন ১৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে তিনজন রয়েছেন দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী কেডিএস গ্রুপের। তারা হলেন— কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, কেডিএস গার্মেন্টসের প্রতিনিধি পরিচালক মাহবুব আহমেদ এবং কেডিএস টেক্সটাইলের প্রতিনিধি পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।
পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত অন্য পরিচালকরা হলেন—
- ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান,
- বিগত নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসন থেকে জামায়াতের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা এনায়েত উল্লাহ,
- সেলিম রহমান,
- আহামেদুল হক,
- রফিকুল ইসলাম,
- ইমাদুর রহমান,
- নাজমুল আহসান খালেদ,
- আনোয়ার হোসাইন,
- আবদুস সালাম,
- লিয়াকত আলী চৌধুরী এবং
- কেওয়াই স্টিল মিলসের পক্ষে প্রতিনিধি পরিচালক শরীফ উদ্দিন তাসলিম।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে খাজা শাহরিয়ারকে স্বতন্ত্র পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
পর্ষদের অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন— মো. শাহীন উল ইসলাম, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, এম আবু ইউসুফ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান। এই শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা নতুন পর্ষদেও বহাল থাকবেন। তবে পর্ষদের সকল পরিচালক মিলে এখন আবার নতুন করে ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন।