সোমবার ১৩ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণে বিজিএমইএ ও এইচএসবিসির যৌথ উদ্যোগ, হংকংয়ে তৈরি পোশাক প্রদর্শনীর ঘোষণা বিজিএমইএ ও ওকাইবের মধ্যে যৌথ বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন ও নীতি সংস্কার নিয়ে বৈঠক জাল টাকা রাখলে বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড পুঁজিবাজারে নতুন সংস্কারের উদ্যোগ: ভালো কোম্পানির শেয়ারে চালু হচ্ছে একই দিনে কেনাবেচার ‘ডে নেটিং’ সুবিধা অর্থনৈতিক সংকট ও সরকারি ব্যয় হ্রাস : সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত গাড়িঋণ বন্ধ, বিদেশ সফরে কড়াকড়ি<gwmw style="display:none;"></gwmw> ইসলামী ব্যাংকের উত্তরা শাখায় ‘গ্রাহক সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ১৪১ কোটি টাকায় আধুনিকায়ন হচ্ছে নেসকোর ৯ উপকেন্দ্র: অনুমোদন দিল ক্রয় কমিটি<gwmw style="display:none;"></gwmw> ২৫ বছরে এফডিআই ২১৬ কোটি থেকে ১,৯৬৩ কোটি ডলারে: ২৫ বছরে বাংলাদেশে রেকর্ড বিনিয়োগ বৃদ্ধি<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের পরবর্তী বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হচ্ছেন আব্দুর রহমান খান<gwmw style="display:none;"></gwmw>

বিজিএমইএ ও ওকাইবের মধ্যে যৌথ বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন ও নীতি সংস্কার নিয়ে বৈঠক

ঢাকা, ১২ জুলাই (বিডইকোনমি নিউজ) — বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং ওভারসিজ চাইনিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (ওকাইব)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান। ওকাইবের সভাপতি ফেলিক্স চ্যাং ওয়াই.সি.-এর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এবং বিজিএমইএ-এর পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকরা এই সভায় অংশ নেন।

দেশের প্রধান রপ্তানি খাতের অগ্রগতি ও সক্ষমতা বাড়াতে এই বৈঠকে মূলত ৪টি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে একটি কৌশলগত রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা করা হয়:

  • যৌথ বিনিয়োগ ও বন্ধ কারখানা পুনরুজ্জীবন: আরএমজি উৎপাদন এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ (সহায়ক) শিল্পে সরাসরি চীনা বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে, বন্ধ বা সংকটে থাকা স্থানীয় কারখানাগুলোর শতভাগ মালিকানা গ্রহণ অথবা যৌথ শেয়ার ক্রয়ের মাধ্যমে নতুন মূলধন বিনিয়োগ করে সেগুলো সচল করার প্রস্তাব দেন চীনা বিনিয়োগকারীরা।
  • ব্যবসায়িক খরচ হ্রাস ও নীতি সংস্কার: ব্যবসা পরিচালনার খরচ কমাতে কাস্টমস, বন্ড লাইসেন্স এবং যন্ত্রপাতি দ্রুত খালাসের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া, পণ্য খালাসের সময় কমিয়ে আনতে একটি কার্যকর ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করা জরুরি বলে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে।
  • সবুজ প্রযুক্তি ও সার্কুলার ফ্যাশন: বৈশ্বিক জলবায়ু নীতিমালার সঙ্গে সংগতি রেখে সার্কুলার ফ্যাশন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং কার্বন নির্গমন হ্রাসের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চীনা প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে কার্বন ট্রেডিং মেকানিজম চালু এবং যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে উন্নত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি প্রবর্তনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
  • চতুর্থ শিল্প বিপ্লব (4IR) ও আধুনিকায়ন: চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত যন্ত্রপাতির মাধ্যমে কারখানা অটোমেশনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সোয়েটার উৎপাদন খাতকে আধুনিকায়ন করতে ওকাইব একটি বিশেষ ‘এক্সচেঞ্জ পলিসি’ বা বিনিময় নীতির প্রস্তাব করেছে। এর অধীনে, পুরনো জ্যাকোয়ার্ড নিটিং মেশিনের বদলে অত্যাধুনিক ও উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন নতুন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হবে।

বৈঠকে ওকাইব প্রতিনিধি দল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও স্থানীয় কাস্টমস জটিলতা এবং প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে তারা বিজিএমইএ-এর সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে বিজিএমইএ নেতৃত্ব আশ্বাস দেন যে, তারা এই নিয়ন্ত্রক ও নীতিগত সমস্যাগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা করবেন। তারা আরও জানান, স্থানীয় উদ্যোক্তারা চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া কারখানাগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে অত্যন্ত আগ্রহী।

বিজিএমইএ নেতারা জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এখন উচ্চ-মূল্যের পণ্য, সার্কুলার ইকোনমি এবং টেকসই পোশাক তৈরির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ওকাইবের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের ফলে স্থানীয় কারখানাগুলো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজে চীনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগাতে পারবে, যা বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।