শুক্রবার ১০ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
জাল টাকা রাখলে বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড পুঁজিবাজারে নতুন সংস্কারের উদ্যোগ: ভালো কোম্পানির শেয়ারে চালু হচ্ছে একই দিনে কেনাবেচার ‘ডে নেটিং’ সুবিধা অর্থনৈতিক সংকট ও সরকারি ব্যয় হ্রাস : সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত গাড়িঋণ বন্ধ, বিদেশ সফরে কড়াকড়ি<gwmw style="display:none;"></gwmw> ইসলামী ব্যাংকের উত্তরা শাখায় ‘গ্রাহক সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ১৪১ কোটি টাকায় আধুনিকায়ন হচ্ছে নেসকোর ৯ উপকেন্দ্র: অনুমোদন দিল ক্রয় কমিটি<gwmw style="display:none;"></gwmw> ২৫ বছরে এফডিআই ২১৬ কোটি থেকে ১,৯৬৩ কোটি ডলারে: ২৫ বছরে বাংলাদেশে রেকর্ড বিনিয়োগ বৃদ্ধি<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের পরবর্তী বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হচ্ছেন আব্দুর রহমান খান<gwmw style="display:none;"></gwmw> নাজুক ব্যাংকগুলোতে ট্রেড ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত: বিআইবিএম গবেষণা বন্ধ শিল্প পুনরুজ্জীবিত করতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল: নীতিমালা জারি বাংলাদেশ ব্যাংকের

অর্থনৈতিক সংকট ও সরকারি ব্যয় হ্রাস : সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত গাড়িঋণ বন্ধ, বিদেশ সফরে কড়াকড়ি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, (বিডি ইকোনমি)-

ঢাকা, ০৯ জুলাই ২০২৬: সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সরকারি ব্যয় কমাতে কঠোর অর্থনৈতিক সংকোচন নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে উপসচিব থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য দেওয়া ৩০ লাখ টাকার সুদমুক্ত ঋণ আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে সরকারি অফিসের জন্য নতুন গাড়ি কেনাও স্থগিত থাকবে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের ব্যয় সংকোচনে গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়।

নতুন পরিপত্রে শুধু গাড়িঋণই নয়, বরং নতুন ভবন নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ এবং সরকারি অর্থায়নে বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এই নির্দেশনা দেশের সকল সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, করপোরেশন এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।

পরিপত্রের মূল সিদ্ধান্তসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:

  • যানবাহন ক্রয় ও ঋণ স্থগিত: পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট থেকে নতুন কোনো মোটরযান কেনা যাবে না। তবে ১০ বছরের বেশি পুরোনো ও ব্যবহারের অনুপযোগী গাড়ি প্রতিস্থাপনের জরুরি প্রয়োজন হলে অর্থ বিভাগের পূর্বানুমতি নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে শতভাগ বৈদ্যুতিক গাড়ি (Full Electric Vehicle – FEV) কেনাকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। একই সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত গাড়িঋণ সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
  • বিদেশ সফর ও প্রশিক্ষণ বন্ধ: সরকারি অর্থায়নে সকল প্রকার বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালা আপাতত বন্ধ থাকবে। তবে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে এ ধরনের কর্মসূচি এবং দীর্ঘমেয়াদি উচ্চশিক্ষা (মাস্টার্স ও পিএইচডি) এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
  • কেনাকাটা ও পরিদর্শনে সাশ্রয়: সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিদেশে গিয়ে প্রিশিপমেন্ট ইন্সপেকশন (PSI) বা ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপটেন্স টেস্ট (FAT) করা যাবে না। এর পরিবর্তে দেশের অভ্যন্তরে বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তৃতীয় পক্ষের (Third Party) মাধ্যমে এই পরিদর্শন সম্পন্ন করতে হবে।
  • ভবন নির্মাণ ও ভূমি অধিগ্রহণ: যেসব আবাসিক ও অনাবাসিক ভবনের নির্মাণকাজ এখন পর্যন্ত ৭০ শতাংশের কম সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলোতে নতুন করে অর্থ ব্যয় নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এছাড়া পরিচালন বাজেট থেকে নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থছাড় আপাতত বন্ধ থাকবে।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে পরিচালন ব্যয় থেকে প্রশিক্ষণ বাবদ ৪ হাজার ৬২৮ কোটি, জ্বালানি তেল বাবদ ৩ হাজার ২৫১ কোটি এবং ভ্রমণ ও বদলি বাবদ ২ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে মূলধন ব্যয় থেকে ভূমি বাবদ ৬ হাজার ৭৩৩ কোটি এবং সরকারি কর্মচারীদের ঋণ বাবদ ৪৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এই খাতগুলো থেকে বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিপত্রে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সরকারি অর্থ ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে ‘ভ্যালু ফর মানি’ (Value for Money) বা অর্থের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে হবে এবং সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার করতে হবে।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান সরকারের এই উদ্যোগকে যৌক্তিক ও স্বাগত জানিয়ে বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ যখন ব্যয় সংকোচন করছে, তখন সরকারের এমন নির্দেশনা সঠিক পদক্ষেপ। তবে রাজস্ব আদায় ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় গতি ফিরলে সরকার পরবর্তীতে এই পরিপত্র প্রত্যাহার করে নিতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।