ঢাকা, ৫ জুলাই (বিডিইকোনমি) ২০২৬: দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল ও উৎসাহিত করতে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৩টি খাতের বিপরীতে রপ্তানি প্রণোদনা ও নগদ সহায়তার হার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা পাবেন রপ্তানিকারকরা।
রোববার (৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট (এফইপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে জাহাজীকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে এই নতুন হার প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত সার্কুলারে জানানো হয়, রপ্তানিকারকদের জমা দেওয়া নগদ সহায়তার আবেদনপত্রগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশিকা অনুযায়ী বহিঃস্থ অডিট ফার্মের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমিক নিরীক্ষা (অডিট) সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত অন্যান্য বিদ্যমান সব শর্ত যথারীতি বহাল থাকবে।
সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সহায়তা যেসব খাতে
নতুন ঘোষিত প্রmatrix বা কাঠামো অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি উচ্চ-অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা পাবে। খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে— বহুমুখী পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, আলু, হালকা প্রকৌশল পণ্য (লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং), ১০০ শতাংশ হালাল মাংস ও প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং অ্যাকুমুলেটর ব্যাটারি। এছাড়া হিমায়িত চিংড়ি, ফার্নিচার ও হালাল পণ্য রপ্তানিও বিশেষ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
পোশাক ও বস্ত্র খাতের প্রণোদনা
দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) এবং বস্ত্র খাতের জন্য বিশেষায়িত সহায়তার ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে। শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতের জন্য বিকল্প নগদ সহায়তা ১.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইউরোজোনে বস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকরা অতিরিক্ত ০.৫০ শতাংশ বিশেষ সহায়তা পাবেন। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের (নিটওয়্যার, ওভেন ও সোয়েটার) আওতাধীন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ৩.০ শতাংশ অতিরিক্ত সুবিধা উপভোগ করবে। এছাড়া সামগ্রিক তৈরি পোশাক খাতের জন্য ০.৩০ শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইইউ এবং যুক্তরাজ্য ব্যতীত নতুন পণ্য বা নতুন বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য বস্ত্র খাত ২.০ শতাংশ প্রণোদনা পাবে।
অন্যান্য খাতের সহায়তার হার
আসবাবপত্র (ফার্নিচার), পাটখড়ি থেকে উৎপাদিত কার্বন, জুট পার্টিকেল বোর্ড, শস্য ও সবজির বীজ, আগর ও আতর এবং হিমায়িত চিংড়ি (সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বরফ আচ্ছাদনসহ) রপ্তানির বিপরীতে ৮.০ শতাংশ প্রণোদনা বরাদ্দ করা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার এবং আইটি অ্যানাবল্ড সার্ভিসেস (আইটিইএস) রপ্তানিতে মিলবে ৬.০ শতাংশ প্রণোদনা। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সাররা সফটওয়্যার ও আইটিইএস রপ্তানির বিপরীতে ২.৫০ শতাংশ নগদ সহায়তা পাবেন। এছাড়া ওষুধ খাতের অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যালস ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) ৫.০ শতাংশ এবং সাধারণ ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য রপ্তানিতে ৬.০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।
বিশেষায়িত অঞ্চলের জন্য প্রণোদনা
বেজা (BEZA), বেপজা (BEPZA) এবং হাই-টেক পার্কের মতো বিশেষায়িত অঞ্চলে অবস্থিত কোম্পানিগুলোর জন্যও নির্দিষ্ট ভর্তুকির হার নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব অঞ্চলের আওতাধীন ‘টাইপ-এ’ এবং ‘টাইপ-বি’ এন্টারপ্রাইজের অধীনে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে ২.০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হবে। পাশাপাশি অন্যান্য নির্ধারিত খাতের জন্য প্রণোদনার হার ০.৩০ শতাংশ থেকে ২.০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।