ঢাকা, ১ জুন, বিডিইকোনমি — দেশে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ক্ষেত্রে এক বিশাল সুসংবাদ এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি ২০২৬ সালের মে মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৫.৩৪ শতাংশের এক অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
গত ১ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে প্রবাসী কর্মীরা মোট ৩.৪২ বিলিয়ন (৩৪২ কোটি) মার্কিন ডলার সমপরিমাণের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের (মে ২০২৫) ২৯৬ কোটি (২.৯৬ বিলিয়ন) ডলারের তুলনায় অনেক বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৮ মে দেশে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোয় মে মাসে রেমিট্যান্সের এই জোয়ার তৈরি হয়েছে।
মে মাসের এই রেকর্ড প্রবাহের ওপর ভর করে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই ২০২৫ থেকে মে ২০编制৬) মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২.৭৫ বিলিয়ন (৩,২৭৫ কোটি) মার্কিন ডলারে। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সামগ্রিকভাবে ১৯ শতাংশের এক শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই ২০২৪ থেকে মে ২০২৫) দেশ দেশে ২৭.৫ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ইউএনবি-কে বলেন, প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নীতিগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, “বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোকে উৎসাহিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব ধরনের পলিসি সাপোর্ট বা নীতিগত সহায়তা চলমান থাকবে।”
এই ইতিবাচক ধারা সম্পর্কে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ তৌফিকুল ইসলাম খান ইউএনবি-কে বলেন, নীতিগত সংস্কার ও উৎসব—এই দুইয়ের সমন্বিত প্রভাবেই রেমিট্যান্সের এই বড় ধরনের গতি সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ডিজিটাল ব্যাংকিং চ্যানেলগুলোর ক্রমাগত আধুনিকায়ন, ঈদের মতো বড় ধর্মীয় উৎসবের কারণে বিপুল পরিমাণ মৌসুমি অর্থপ্রবাহ এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দেওয়া প্রতিযোগিতামূলক ডলার রেট প্রবাসীদের বৈধ পথে টাকা পাঠাতে দারুণভাবে উৎসাহিত করেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও ডলার সংকটের এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে রেমিট্যান্স কাঠামোর এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে বড় ধরনের সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।