আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল ট্যাংকার পরিচালনাকারী ও শিপিং প্রতিষ্ঠান চীনের ‘কসকো’ (Cosco) বুধবার থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে সাধারণ কার্গো কন্টেইনার শিপমেন্টের জন্য নতুন বুকিং নেওয়া শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার জেরে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর এই সিদ্ধান্ত নিল প্রতিষ্ঠানটি।
কসকো-এর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সুদূর প্রাচ্যের (Far East) দেশগুলো থেকে এখন সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত এবং ইরাকে সাধারণ পণ্য পরিবহনের জন্য নতুন করে রিজার্ভেশন বা বুকিং দেওয়া যাবে। তবে প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে যেকোনো সময় এই বুকিং বা শিপমেন্ট সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
যদিও জ্বালানি তেল পরিবহন বা ট্যাংকার বুকিং পুনরায় শুরুর বিষয়ে বিবৃতিতে কিছু উল্লেখ করা হয়নি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের লক্ষ্যে ইরানের সাথে কোনো আংশিক সমঝোতার ইঙ্গিত হতে পারে এই পদক্ষেপ। চলতি মাসের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে কসকো এই অঞ্চলে তাদের কার্গো সেবা স্থগিত করেছিল।
হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব ও বর্তমান পরিস্থিতি: বিশ্বের জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী। ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের ২৫ শতাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশ এবং সার বাণিজ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। এছাড়া চীনের মোট তেল আমদানির ৪৫ শতাংশ এবং এলএনজি আমদানির ২০ শতাংশ এই রুট দিয়েই দেশটিতে পৌঁছায়। এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম।