সোমবার ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
গণভোটের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা পল্লী বিদ্যুতের ৩ কোটি ৭২ লাখ গ্রাহকের কাছে যাবে ‘হ্যাঁ’ লিফলেট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ খাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা চালানো হবে আইসিএমএবি’র নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন মো. কাওসার আলম জলবায়ু পরিবর্তন ও ট্রাম্প: গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি বনাম বাস্তবতা গ্রিনল্যান্ড কিনতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের ১০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা লগারহেড কচ্ছপ ‘গুমুশ’-এর বিস্ময়কর যাত্রা: সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিই কি কারণ?

দেশের অর্থনীতি ভালো আছে, অর্থনীতিনৈতিক উন্নতিকে টেকসই করতে কাজ করছে সরকার: অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: জানুয়ারি ১০: অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশকে হুবহু সিঙ্গাপুরে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখানো নয় বরং ধৈর্য, চেষ্টা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

বর্তমানে দেশের অর্থনীতি ভালো আছে উল্লেখ করে বলেন,কেবল একটি সরকার নয়, ধারাবাহিক অনেক সরকার সময় নিয়ে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জনপ্রিয়তার চাপে পড়ে নয় বরং দেশের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই নীতি নির্ধারণ করতে হয়। নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয় এবং এখানে ভুল থাকার সম্ভাবনাও থাকে। নীতি নেওয়া খুব সহজ কাজ না। অনেক সময় জনপ্রিয় বা পপুলিস্ট ডিমান্ড আসে-কেউ বলে সুদের হার কমান, কেউ বলে কর কমান। সবাই বলে ‘আমি, আমি’, কিন্তু ‘আমরা’ বলে না। অথচ নীতি তো একজনের জন্য নয়, পুরো দেশের জন্য।

তিনি বলেন, পলিসি লেভেলে কাজ করতে গিয়ে নানা চাপ আসে। তবে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে সামগ্রিক চিত্র দেখতে হয়। ‌ভুল থাকতেই পারে, সবাইকে খুশি করা যাবে না এটা বাস্তবতা।

বাংলাদেশে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য ডানা তথা তথ্য-উপান্তের অভাব, এ খেত্রে ব্যাংকিং আলমানাক সঠিক তথ্যের একটা সূত্র হতে পারে। এখানে ব্যাংকিং সেক্টরের বিভিন্ন নীতি ও পলিসি একসাথে পাওয়া যায়, যা ব্যাংকিং সেক্টরের প্রফেশনালদের জন্য খুবই সহায়ক হতে পারে।

নিজের ভূমিকা নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি জানি না ভবিষ্যতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে যাব কি না। তবে গভর্নর হিসেবে পুরোপুরি ব্যর্থ হব এটা মনে করি না। কিছু কাজের ফল আপনারা দেখতে পাবেন।’

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সংকট কোনো একক সরকার বা ব্যক্তির কারণে নয়। এটা দীর্ঘদিনের ডেভেলপমেন্ট প্রসেসের অংশ। সবাই ধীরে ধীরে কন্ট্রিবিউট করেছে এবং ভবিষ্যতেও সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে একেবারে নেগেটিভভাবে দেখার প্রবণতা ঠিক নয়। ৫৪ বছরে বাংলাদেশ ফেল করেনি। আমরা অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়েছি, কিন্তু সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।

সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা সিঙ্গাপুর হয়ে যাব-এমন কথা বলছি না। তবে চেষ্টা করলে, ধৈর্য ধরে কাজ করলে শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে দেশের জন্য কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করাই সবচেয়ে বড় কথা। ভবিষ্যতেও সবাই মিলে বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যভিত্তিক গবেষণাগ্রন্থ ‘Banking Almanac’-এর ৭ম সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন অর্থসচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, অর্থমন্ত্রণালয়ের ফিন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউন্স ডিভিশনের সচিব মিসেস নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ ব্যাংক এর ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জনাব আবদুল হাই সরকার ।

এ ছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন এইচএসবিসি ব্যাংকের সিইও মাহবুবুর রহমান । অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকিং অ্যালমানাক-এর বোর্ড অব এডিটরস এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

ব্যাংক খাতে বর্তমানে উচ্চ সুদহারের প্রকৃত কারণ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএবি এর চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার।

তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংক খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়- এই দুই উৎস থেকেই তহবিল পাওয়া যাচ্ছে। ব্যাংক খাতকে আরও কার্যকর ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সরকার থেকেও আসছে। এরপরও কেন সুদহার এতটা বেড়ে গেছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পরিষ্কার নয়।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন সকল উদ্যোগতাদের জন্য সঠিক তথ্য ও পলিসি ব্যাংকিং আলমানাক এ উপস্থাপন করা, তাই এটা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ।

তিনি দেশে ইকোনমিক ডেমোক্রেসি প্রতিষ্ঠার আহবায়ন জানিয়ে বলেন, সাসটেইনেবল অর্থায়ন ও সবার জন্য সমান সুযোগ সৃস্টি হবে। জুলাই পরিবর্তন এর পরে মানুষ অনেক আর্থিক অিনিয়মের তথ্য জানতে পারছে এবং তারা সচেতন হয়েছে।

বর্তমানে অর্থনৈতিক গতি স্লো হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে ড. হোসেন জিল্লুর বলেন সবাই মিলে অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও গতিশীল করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে সারা বিশ্বের সাথে দেশকে সংযুক্ত রাখতে।

অর্থসচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান বলেন দেশে অর্থতিক স্তিতিশীলতা ফিরে এসেছে, টাকার বিনিময় হার শক্তিশালী হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে এখন ডলার কিনে বিনিময় হারকে ঠিক রাখতে হচ্ছে।

এ ছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন এইচএসবিসি ব্যাংকের সিইও মাহবুবুর রহমান । অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকিং অ্যালমানাক-এর বোর্ড অব এডিটরস এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন গ্রন্থটির এক্সিকিউটিভ এডিটর জনাব সৈয়দ জিয়াউদ্দিন আহমেদ। বক্তব্য রাখেন ‘Banking Almanac’-এর বোর্ড অব এডিটরস এর সম্মানিত সদস্য অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)-এর সাবেক চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ নুরুল আমিন এবং বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর জনাব চৌধুরী লিয়াকত আলী। ব্যাংকিং সেবা-বৈচিত্র্যের তথ্য-উপাত্ত জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য বিষয়ে বিশেষ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্যাংকিং অ্যালমানাকের প্রকল্প পরিচালক আবদার রহমান। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন গ্রন্থটির নির্বাহী সম্পাদক জনাব মোহাম্মদ এমদাদুল হক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় শিক্ষাবিষয়ক সাপ্তাহিক পত্রিকা শিক্ষাবিচিত্রার উদ্যোগে ২০১৬ সাল থেকে ‘Banking Almanac’ গবেষণা গ্রন্থটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে। ব্যাংকিং অ্যালমানাক এর গৌরবময় অভিযাত্রার ৯ বছর। প্রতিবছর একটি মোড়কে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলী, সেবা এবং কর্মদক্ষতা সূচকের সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত সর্বসাধারণের সম্মুখে তুলে ধরার এক নির্ভরযোগ্য প্রয়াস ব্যাংকিং অ্যালমানাক। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রতিনিয়ত যে বিস্তর তথ্য-উপাত্তের উপর দাঁড়িয়ে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে অবদান রেখে যাচ্ছে Banking Almanac তারই সুসংগঠিত বার্ষিক হালনাগাদ তথ্য-ভাণ্ডার। গবেষক, পেশাজীবী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাক’ গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা গ্রন্থ। বিশেষ করে বিদেশী বিনিয়োগকারী এবং দেশী-বিদেশী গবেষণা সংস্থা এবং যারা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করেন তাদের জন্য এই ব্যাংকিং অ্যালমানাক খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ বইটিতে বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যউপাত্ত একসঙ্গে পাবেন যা বিনিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পেতে সহায়তা করবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, গ্রন্থটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট গভর্নেন্সের জবাবদিহীতার বিষয়টিকে আরো শক্তিশালী করবে। ব্যাংকিং অ্যালমানাক দুটি ভার্সনে প্রকাশিত হয়–প্রিন্ট ভার্সন এবং ওয়েবসাইট (www.bankingalmanac.com) এর মাধ্যমে। অ্যামাজনডটকম (amazon.com), রকমারিডটকম (rokomari.com) ও পাঠক সমাবেশ-এর বিক্রয় কেন্দ্র থেকে পাঠকগণ বইটি সংগ্রহ করতে পারেন।