আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ওয়াশিংটন : মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইনপ্রণেতাদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখল করার জন্য কোনো সামরিক অভিযানের তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা নেই হোয়াইট হাউসের। বরং দ্বীপটি ডেনমার্কের কাছ থেকে কিনে নেওয়ার লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে।
আলোচনার মাধ্যমে চাপের কৌশল সোমবার একটি রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে রুবিও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে প্রশাসনের আক্রমণাত্মক বক্তব্যগুলো মূলত ডেনমার্ককে আলোচনার টেবিলে আনার জন্য একটি কৌশলগত চাপ। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের অংশ। তিনি বলেন, “কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্ট প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্পটিও হাতে রেখেছেন।”
ন্যাটো ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া গ্রিনল্যান্ড একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হলেও এটি ডেনমার্কের অংশ, যা ন্যাটোর (NATO) সদস্য। ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, যদি এক ন্যাটো দেশ অন্য ন্যাটো দেশের ওপর আক্রমণ চালায়, তবে কয়েক দশকের এই সামরিক জোট এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক নিয়মকানুন সব ভেঙে পড়বে। ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য ছয়জন নেতাও যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন।
কেন গ্রিনল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেন, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া এবং চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন নিয়ন্ত্রণ জরুরি। এছাড়া দ্বীপটির বিশাল খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার এবং আমেরিকান কোম্পানিগুলোর সেখানে অবাধ প্রবেশের সুযোগ তৈরির বিষয়েও তিনি আগ্রহী।
ডেনমার্ক সরকার ট্রাম্পের নিরাপত্তা উদ্বেগ কমাতে সেখানে আরও মার্কিন সেনা মোতায়েন এবং খনি উত্তোলনের বিশেষ অধিকার দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে আটক এবং নাইজেরিয়া ও ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পর অনেক আইনপ্রণেতা আশঙ্কা করছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তি প্রয়োগে বিশ্বাসী হয়ে উঠছে। তবে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম মনে করেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যা হচ্ছে তা কেবলই আলোচনার একটি অংশ।
যদিও জনমত জরিপ অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের বেশিরভাগ মানুষ আমেরিকার অংশ হওয়ার তীব্র বিরোধী। তবুও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিফেন মিলার এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে আসবে না।”