সোমবার ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
গণভোটের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা পল্লী বিদ্যুতের ৩ কোটি ৭২ লাখ গ্রাহকের কাছে যাবে ‘হ্যাঁ’ লিফলেট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ খাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা চালানো হবে আইসিএমএবি’র নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন মো. কাওসার আলম জলবায়ু পরিবর্তন ও ট্রাম্প: গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি বনাম বাস্তবতা গ্রিনল্যান্ড কিনতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের ১০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা লগারহেড কচ্ছপ ‘গুমুশ’-এর বিস্ময়কর যাত্রা: সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিই কি কারণ?

হাওরে ধান কাটা ও পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন: সুনামগঞ্জে বিএডিসির মেগা প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সুনামগঞ্জসহ দেশের হাওর অঞ্চলের কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে এক বিশাল উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। হাওরের দুর্গম এলাকায় বোরো ধান কাটা, মাড়াই এবং দ্রুত পরিবহনের সুবিধার্থে পাকা ‘গোপাট’ (কজওয়ে), থ্রেসিং ফ্লোর এবং সানিং প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে পাহাড়ি ঢল বা আগাম বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে কৃষকের কষ্টের ফসল।

গোপাট ও মাড়াই প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব হাওরের গভীর থেকে মূল সড়ক বা নদী পর্যন্ত ফসল আনার একমাত্র মাধ্যম হলো মাটির গোপাট। কিন্তু বৃষ্টির সময় এগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় ধান পরিবহন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। বিএডিসির এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থায়ী আরসিসি (পাকা) গোপাট নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ধান শুকানো ও মাড়াইয়ের জন্য তৈরি হবে আধুনিক সানিং ও থ্রেসিং ফ্লোর।

প্রকল্পের বিস্তারিত বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বাজেটের এই প্রকল্পটি ‘সিলেট বিভাগীয় ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্যগুলো হলো:

  • ২০২৯ সালের মধ্যে সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় মোট ১৭,০১৯ হেক্টর পতিত জমি সেচ সুবিধার আওতায় আনা।
  • অতিরিক্ত ৫১,০৫৮ মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা।
  • সুনামগঞ্জের হাওরগুলোতে ১০ কিলোমিটার পাকা গোপাট এবং ৫টি করে থ্রেসিং ও সানিং ফ্লোর নির্মাণ।
  • খাল ও পাহাড়ি ছড়া পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সেচ সুবিধা বৃদ্ধি।

বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাদের মতামত অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “প্রথমবারের মতো সরকার হাওরের গোপাটকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রকল্পের আওতায় এনেছে। এর ফলে সড়ক ও নৌ—উভয় পথেই ধান পরিবহন সহজ হবে, যা কৃষকের সময় ও অর্থ সাশ্রয় করবে।”

হাওর, নদী ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মিজানুর রহমান একে ‘সময়োপযোগী’ বলে আখ্যা দিয়ে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রকল্প পরিচালক প্রণজিত কুমার দেব বলেন, “বিএডিসির এই পাঁচ বছর মেয়াদী প্রকল্পটি হাওর কৃষিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে ধান দ্রুত মাড়াই ও শুকানোর ব্যবস্থা থাকায় কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যাবেন।”

বর্তমান অবস্থা চলতি অর্থবছরেই সুনামগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ হাওরগুলোতে কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৪ কিলোমিটার গোপাট এবং ২টি করে থ্রেসিং ও সানিং ফ্লোর নির্মাণ করা হচ্ছে। এই কজওয়েগুলো ৮ ফুট প্রশস্ত হবে এবং আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে টেকসই করা হবে।

এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন সুনামগঞ্জসহ পুরো সিলেট বিভাগের কৃষকদের জন্য এক নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।