ভ্যাটিকান সিটি: সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা থেকে বৃহস্পতিবার নিজের প্রথম বড়দিনের ভাষণ (Christmas Mass) দেওয়ার সময় পোপ লিও চতুর্দশ গাজাবাসীর চরম দুরবস্থা এবং বিশ্বজুড়ে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। শীতের তীব্রতা ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে গাজাবাসীর টিকে থাকার লড়াইয়ের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।
পোপ তাঁর ভাষণে বলেন, “পবিত্র বাক্য যখন মর্ত্যে দেহ ধারণ করেছিলেন, তখন থেকেই মানবতা ঈশ্বরের সান্নিধ্য পাওয়ার আকুতি জানিয়ে আসছে। তিনি আমাদের মধ্যে তাঁর নশ্বর তাঁবু গেড়েছিলেন। তাহলে আমরা কীভাবে গাজার সেই তাঁবুগুলোর কথা ভুলে যাই, যেগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি, বাতাস আর তীব্র শীতের মুখে পড়ে আছে?”
গাজার মানবিক বিপর্যয়
দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৭১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই নারী ও শিশু। গত অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইসরায়েলি বাহিনীর নিরন্তর লঙ্ঘনের ফলে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। গাজার সরকারি তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পর নতুন করে আরও ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। শীতকালীন ঝড় ও বৃষ্টির ফলে খোলা আকাশের নিচে অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাসকারী লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবন এখন চরম সংকটে। সেখানে নেই কোনো হিটিং ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা।
বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও মানবিক আহ্বান
পোপ লিও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে যুদ্ধ ও সহিংসতার শিকার মানুষের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর সাধারণ মানুষ এবং ধ্বংসস্তূপের মাঝে বেঁচে থাকা মানুষদের শরীর অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। তরুণ সেনাদের নিয়ে তিনি বলেন, ফ্রন্টলাইনে থাকা যুবকরা বুঝতে পারছে তাদের দিয়ে কী অর্থহীন কাজ করানো হচ্ছে এবং ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের মিথ্যা ভাষণে কীভাবে তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
পোপ আরও বলেন, “যিশু চান আমরা যেন মানুষের দুঃখ-কষ্টকে স্পর্শ করি, অন্যদের যন্ত্রণাকে অনুভব করি। তিনি আশা করেন যে, আমরা কেবল নিজেদের নিরাপদ আশ্রয়ে আবদ্ধ না থেকে অন্যের জীবনের বাস্তবতাকে জানব এবং সহমর্মিতার শক্তিকে জাগ্রত করব।”
শান্তি ও সংলাপের বার্তা
তাঁর ঐতিহাসিক ‘আরবি এত অরবি’ (Urbi et Orbi—শহর ও বিশ্বের প্রতি) বার্তায় পোপ শান্তি, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার আহ্বান জানান। তিনি লেবানন, ফিলিস্তিন, ইসরায়েল ও সিরিয়ায় ন্যায়বিচার ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি ইউক্রেনে ‘অস্ত্রের ঝনঝনানি’ বন্ধ করার তাগিদ দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সরাসরি ও সম্মানজনক সংলাপ শুরুর আহ্বান জানান।
পোপ সুদান, দক্ষিণ সুদান, মালি, বুরকিনা ফাসো এবং কঙ্গোর নিপীড়িত মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। এছাড়া তিনি থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যকার ‘প্রাচীন বন্ধুত্ব’ পুনরুদ্ধারের জন্যও বিশেষ প্রার্থনা করেন।