নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) শিল্প পরিবেশবান্ধব বা সবুজ উৎপাদনে এক নতুন বৈশ্বিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ২০২৫ সালে রেকর্ডসংখ্যক ৩৮টি নতুন লিড (LEED) সনদ অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার শীর্ষস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।
বছরের সেরা অর্জন দেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়ন ও প্রসারে নিয়োজিত সংস্থা ‘বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জ’ জানিয়েছে, এক বছরে ৩৮টি কারখানার এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর ফলে বর্তমানে দেশে মোট লিড-প্রত্যয়িত সবুজ কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭০টিতে।
পরিমান নয়, গুণগত মানেও এগিয়ে এবারের অর্জনে বিশেষ দিক হলো এর গুণগত মান। নতুন ৩৮টি কারখানার মধ্যে ২২টিই পেয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ রেটিং। এছাড়া ১১টি গোল্ড এবং ৫টি সিলভার রেটিং অর্জন করেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কোনো কারখানাই সাধারণ মানের (বেসিক) সনদে সীমাবদ্ধ থাকেনি, যা শিল্পের উচ্চ মানকে নির্দেশ করে।
বর্তমানে বাংলাদেশের সবুজ কারখানার ভাণ্ডারে রয়েছে:
- ১১৪টি প্ল্যাটিনাম সার্টিফাইড কারখানা।
- ১৩৭টি গোল্ড সার্টিফাইড কারখানা।
- ১৫টি সিলভার এবং ৪টি সাধারণ সার্টিফাইড কারখানা।
বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশে এই শীর্ষ পর্যায়ের গ্রিন ফ্যাক্টরির ঘনত্ব এখন সবচেয়ে বেশি।

কেন এই রূপান্তর? শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ এবং বিজিএমইএ-র (BGMEA) কৌশলগত নির্দেশনাই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। বিজিএমইএ-র সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “২০২৫ সালের এই গতিশীলতা মূলত বৈশ্বিক মানের সাথে আমাদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার প্রতিফলন। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতারা যখন কম কার্বন নিঃসরণ এবং পানির সাশ্রয়ী ব্যবহারের দাবি তুলছে, তখন আমাদের প্রস্তুতকারকরা সেই পথেই নেতৃত্ব দিচ্ছে।”
ভবিষ্যতের প্রস্তুতি এই রেকর্ড অর্জন কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি বিশ্ববাজারের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি। কার্বন ট্যাক্স ও ডিজিটাল স্বচ্ছতার মতো নতুন বৈশ্বিক শর্ত পূরণে এই গ্রিন ফ্যাক্টরিগুলো বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম ভবিষ্যৎ-উপযোগী পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
লিড (LEED) কী? ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (USGBC) দ্বারা উদ্ভাবিত লিড হলো বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত সবুজ ভবনের রেটিং পদ্ধতি। এটি কোনো স্থাপনার শক্তি সঞ্চয়, পানি সাশ্রয়, এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করার সক্ষমতা যাচাই করে সনদ দিয়ে থাকে।