সোমবার ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
গণভোটের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা পল্লী বিদ্যুতের ৩ কোটি ৭২ লাখ গ্রাহকের কাছে যাবে ‘হ্যাঁ’ লিফলেট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ খাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা চালানো হবে আইসিএমএবি’র নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন মো. কাওসার আলম জলবায়ু পরিবর্তন ও ট্রাম্প: গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গি বনাম বাস্তবতা গ্রিনল্যান্ড কিনতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের ১০% শুল্ক আরোপের ঘোষণা লগারহেড কচ্ছপ ‘গুমুশ’-এর বিস্ময়কর যাত্রা: সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিই কি কারণ?

বীমা খাতে নতুন চ্যালেঞ্জ: গ্রস প্রিমিয়াম ফি ৫ গুণ বৃদ্ধির উদ্যোগ, ২০৩০ সাল থেকে কার্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দেশের বীমা খাতের উদ্যোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়াতে যাচ্ছে সরকার। গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে গ্রস প্রিমিয়ামের ওপর যে নিবন্ধন ফি হাজারে এক টাকা ছিল, তা এবার পাঁচ গুণ বাড়িয়ে পাঁচ টাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন ধাপে এই বর্ধিত হার কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এই লক্ষ্য অর্জনে ‘বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২’ সংশোধন করে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করতে যাচ্ছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে নিবন্ধন নবায়ন ফি নিম্নোক্তভাবে কার্যকর হবে:

  • ২০২৬ ও ২০২৭ সালে: প্রতি হাজারে ২.৫ টাকা
  • ২০২৮ ও ২০২৯ সালে: প্রতি হাজারে ৪ টাকা
  • ২০৩০ সাল থেকে পরবর্তী সময়ে: প্রতি হাজারে ৫ টাকা

আইডিআরএর পরামর্শক (মিডিয়া এবং যোগাযোগ) ও মুখপাত্র সাইফুন্নাহার সুমি জানান, বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাবটি গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য এরই মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

শিল্পের উদ্বেগ: ব্যবস্থাপনা ব্যয় বৃদ্ধির শঙ্কা :

বীমা কোম্পানির নিবন্ধন নবায়ন ফি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বীমা শিল্পের অংশীজনরা। তাদের মতে, বর্তমানে বীমা কোম্পানিগুলো ব্যবস্থাপনা সংকট, গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে ব্যর্থতা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে না পারার মতো সমস্যায় ভুগছে। এমন পরিস্থিতিতে নিবন্ধন নবায়ন ফি পাঁচ গুণ বাড়ানো হলে কোম্পানিগুলোর আর্থিক চাপ আরও বাড়বে।

শীর্ষস্থানীয় একটি বীমা কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মত দেন, উন্নয়নের স্বার্থে ফি বাড়ানো যেতে পারে, তবে শর্ত হলো নিবন্ধন ফির অর্থকে ট্যাক্স ফ্রি করতে হবে। অন্যথায়, কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের হার বেড়ে যাবে এবং একই সঙ্গে আইডিআরএর ব্যয়সীমা কমানোর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর ফলে কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হয়রানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

ফি বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করল আইডিআরএ:

আইডিআরএ সূত্র অনুযায়ী, ২০১২ সালের বিধিমালায় এই ফি ৩.৫০ টাকা নির্ধারণ করা থাকলেও, ২০১৮ সালে তা ভারতীয় বাজারের সঙ্গে তুলনা করে প্রতি হাজারে ১.০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

সংস্থাটি জানায়, ২০২৩ সালের হিসাবে ভারতের মোট গ্রস প্রিমিয়াম ছিল প্রায় ৬ লাখ কোটি রুপি, যেখানে নবায়ন ফি কম হলেও ভারতীয় রেগুলেটর বছরে প্রায় ৬০০ কোটি রুপি রাজস্ব পায়। এর বিপরীতে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভিন্ন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আইডিআরএর প্রস্তাবিত আয় ছিল ৩৭.৫৯ কোটি টাকা এবং ব্যয় ছিল ৩৭.৬৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ বর্তমান ১ টাকার ফি দিয়ে ন্যূনতম পরিচালন ব্যয়ই কোনোমতে নির্বাহ করা যাচ্ছে, সঞ্চয় বা উন্নয়নমূলক ব্যয়ের সুযোগ থাকছে না।

আইডিআরএ মনে করছে, ভবিষ্যতে তাদের ব্যয় অন্তত চার গুণ বাড়বে। এই বাড়তি ব্যয়ের উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে:

  • বীমাকারীদের জন্য আইআইএমএস সেবা বিনামূল্যে প্রদান।
  • জনবল বৃদ্ধি এবং পেনশন-গ্র্যাচুইটি প্রদান।
  • নিজস্ব ভবন নির্মাণ ও শাখা অফিস স্থাপন।
  • বীমা খাতে পেশাদারত্ব বাড়াতে নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা।

এইসব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি জরুরি। সেই লক্ষ্যেই নিবন্ধন নবায়ন ফি ১ টাকা থেকে ৫ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানায় বীমা খাতের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।