বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মহাযুদ্ধের দামামা, বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস জ্বালানি সংকটের শঙ্কা: আলোকসজ্জা পরিহার ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমানোর নির্দেশ সরকারের সাদিক আহমেদের পদত্যাগ: নীতি সুদহার কমানোর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত করল বাংলাদেশ ব্যাংক বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে চীনা প্রতিষ্ঠান; ৪,১৭০ জনের কর্মসংস্থান<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ইরানে হামলায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার: যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ<gwmw style="display:none;"></gwmw> রপ্তানি সংকটের মুখে পোশাক শ্রমিকদের বেতন দিতে বিশেষ ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে: গভর্নর রপ্তানি খাতে ২৫০০ কোটি টাকা ছাড়: সরকারকে বিজিএমইএ’র ধন্যবাদ ডিসেম্বরে শ্রেণিকৃত ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা

ডায়াবেটিস রোগীদের চোখের সমস্যা একটি গুরুতর বিষয়

ডায়াবেটিস রোগীদের চোখের সমস্যা একটি গুরুতর বিষয়, কারণ ডায়াবেটিস চোখের বিভিন্ন অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, বিশেষত ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নামক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও ডায়াবেটিস রোগীদের গ্লুকোমা, ক্যাটারাক্ট এবং ম্যাকুলার ইডিমা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

ডায়াবেটিসের কারণে চোখের প্রধান সমস্যাগুলো:

  1. ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি
  • রেটিনার রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে রক্তপাত, ফোলাভাব বা নতুন অস্বাভাবিক রক্তনালি তৈরি হতে পারে।
  • প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে, কিন্তু পরবর্তীতে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে।
  • চিকিৎসা না করালে অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে।
  1. ডায়াবেটিক ম্যাকুলার ইডিমা
  • রেটিনার কেন্দ্রীয় অংশ (ম্যাকুলা) ফুলে যায়, ফলে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা বা বিকৃত হয়ে যায়।
  1. গ্লুকোমা
  • ডায়াবেটিস রোগীদের গ্লুকোমা হওয়ার ঝুঁকি বেশি। চোখের চাপ বেড়ে গিয়ে অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  1. ক্যাটারাক্ট (ছানি)
  • ডায়াবেটিস রোগীদের কম বয়সেই ছানি পড়তে পারে, যার ফলে দৃষ্টি ঘোলাটে হয়ে যায়।

চিকিৎসা পদ্ধতি:

  • নিয়মিত চোখের পরীক্ষা: ডায়াবেটিস রোগীদের বছরে অন্তত একবার ডাইলেটেড আই একজামিনেশন (রেটিনা পরীক্ষা) করানো উচিত।
  • লেজার থেরাপি (ফোকাল/স্ক্যাটার লেজার): রেটিনোপ্যাথির চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যাতে রক্তনালির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • অ্যান্টি-VEGF ইঞ্জেকশন (আভাস্টিন, লুসেন্টিস): ম্যাকুলার ইডিমা কমাতে ইন্ট্রাভিট্রিয়াল ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়।
  • ভিট্রেক্টমি সার্জারি: রেটিনায় রক্তক্ষরণ বা স্কার টিস্যু থাকলে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে।
  • গ্লুকোমা ও ক্যাটারাক্টের চিকিৎসা: প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, লেজার বা সার্জারি করা হয়।

প্রতিরোধের উপায়:

  • রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন (HbA1c <7%)
  • রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করুন
  • ধূমপান ত্যাগ করুন
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়াম করুন

ডায়াবেটিস রোগীদের দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় নিয়মিত চোখের স্ক্রিনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের দৃষ্টি সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের (রেটিনা বিশেষজ্ঞ) পরামর্শ নিন।