সোমবার ২০ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
এলডিসি–পরবর্তী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পোশাকশিল্পে এআই ও প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ নিরাপদ ও ভোগান্তিহীন লেনদেন নিশ্চিতে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক: গভর্নর ভুয়া ওয়েবসাইট ও সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে ঋণ জালিয়াতি, এডিবি’র সতর্কবার্তা<gwmw style="display:none;"></gwmw> ঢাকায় সাফা আঞ্চলিক কুইজ, পাবলিক স্পিকিং ও প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৫ শতাংশ হতে পারে: আইএমএফ<gwmw style="display:none;"></gwmw> আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকা ইপিজেডে শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রম ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করলেন আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আদালতের আদেশে বিএফআইইউর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক, সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট বেড়েছে ৭৪%

‘লকড অ্যান্ড লোড’ থেকে আকস্মিক বিরতি: ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের রণকৌশল বদলের নেপথ্যে

ওয়াশিংটন ডেস্ক : মাত্র কয়েক দিন আগেও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের ঘনঘটা দেখা দিয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট কাঁপিয়ে দিয়েছিল বৈশ্বিক কূটনীতিকে—যেখানে তিনি ইরানি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে লিখেছিলেন, “সাহায্য আসছে” (HELP IS ON ITS WAY)। কিন্তু সেই রণহুঙ্কার থেকে মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে ট্রাম্প এখন ‘ধৈর্য’ ধরার পথে হাঁটছেন। কেন হঠাৎ এই পিছুটান? এটি কি কৌশলগত বিরতি, নাকি প্রকৃত যুদ্ধ এড়ানোর প্রচেষ্টা?

রণসজ্জা ও আকস্মিক মোড়

গত বুধবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর বিমান হামলার জন্য প্রায় প্রস্তুত ছিল। কাতার ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য ঘাঁটিগুলোতে শুরু হয়েছিল কর্মতৎপরতা। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার সফল অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরান ছিল ট্রাম্পের পরবর্তী সম্ভাব্য লক্ষ্য। কিন্তু সেই নির্দেশ শেষ পর্যন্ত আসেনি।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসের লনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “কেউ আমাকে বোঝায়নি, আমি নিজেই নিজেকে বুঝিয়েছি। তারা (ইরান) ফাঁসি দেয়নি। তারা ফাঁসি বাতিল করেছে—এটাই বড় প্রভাব ফেলেছে।” ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরান ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসি কার্যকর করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসায় তিনি সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন।

নেপথ্যের কারণ: মিত্রদের সতর্কতা ও সামরিক ঝুঁকি

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কাজ করেছে:

  • মিত্র দেশগুলোর চাপ: সৌদি আরব, কাতার এবং ইসরায়েলও এই মুহূর্তে সরাসরি ইরান আক্রমণের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। তাদের আশঙ্কা, একটি আকস্মিক হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে।
  • সামরিক সক্ষমতা: মার্কিন সামরিক উপদেষ্টারা প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছেন যে, ইরান সরকারের পতন ঘটানোর মতো পর্যাপ্ত সামরিক সরঞ্জাম এই মুহূর্তে ওই অঞ্চলে নেই। কেবল বিমান হামলা চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
  • ইরানের প্রতিশোধের হুমকি: ইরান ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের ওপর আক্রমণ হলে সংযুক্ত আরব আমিরাত বা কাতারের মতো দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোও নিরাপদ থাকবে না।

প্রতিবাদীদের মধ্যে আশা ও হতাশার দোলাচল

ট্রাম্পের “সাহায্য আসছে” বার্তার পর অনেক ইরানি বিক্ষোভকারী উজ্জীবিত হয়েছিলেন। কিন্তু এখন ওয়াশিংটনের এই নমনীয় মনোভাবে অনেক বিশেষজ্ঞই ১৯৯১ সালের ইরাক যুদ্ধের কথা স্মরণ করছেন, যখন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ইরাকিদের বিদ্রোহ করতে উৎসাহিত করেও পরে হাত গুটিয়ে নিয়েছিলেন। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ইরান বিশেষজ্ঞ সুজান মালুনি বলেন, “এটি মার্কিন বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ইরানিদের মধ্যে একটি বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।”

যুদ্ধের মেঘ কি পুরোপুরি কেটে গেছে?

যদিও ট্রাম্প এখন ধন্যবাদ জানাচ্ছেন, তবে পেন্টাগন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরে এখনো অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরী, ফাইটার জেট এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো অব্যাহত রয়েছে। হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, “সব পথই খোলা আছে। যদি হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তবে তার গুরুতর পরিণতি হবে।”

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি অবশ্য পুরো পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল সময়ক্ষেপণ করছে।

উপসংহার: ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলের এই দ্বিতীয় দফায় বিশ্ব দেখছে এক অদ্ভুত ‘ডিজিটাল কূটনীতি’। কখনো হুমকি, কখনো প্রশংসা—এই দুইয়ের দোলাচলে আপাতত যুদ্ধের দাবানল স্তিমিত হলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো বারুদের স্তূপের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে।