নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা : বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং জাতীয় রিজার্ভ শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আরও দুটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৪ কোটি ৫০ লাখ (৪৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এদিন প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে কেনা হয়েছে, যেখানে কাট-অফ হারও (Cut-off rate) একই রাখা হয়েছিল।
জানুয়ারিতে ডলার কেনার হিড়িক
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যায়ক্রমে বড় অংকের ডলার সংগ্রহ করেছে। এর আগে গত ১২ জানুয়ারি ১০টি ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার, ৮ জানুয়ারি ১৫টি ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং ৬ জানুয়ারি ১৪টি ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কেনা হয়েছিল।
মঙ্গলবারসহ সর্বশেষ লেনদেনের পর কেবল ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসেই মোট ডলার সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ কোটি ৩০ লাখ (৭৪৩ মিলিয়ন) ডলারে।
অর্থবছরের মোট সংগ্রহ ও বর্তমান পরিস্থিতি
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মঙ্গলবারের লেনদেনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই বিশেষ কৌশলের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হচ্ছে।
হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাড়ে ছয় মাসে (১ জুলাই থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত) আন্তঃব্যাংক বাজার থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ৩৮৭ কোটি ৮৫ লাখ (৩.৮৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে।
স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের উচ্চ প্রবাহের সুযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভের ওপর থেকে চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। ১২২ টাকা ৩০ পয়সায় ডলারের দাম স্থির রাখার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সংকেত দিচ্ছে। এর ফলে হুট করে ডলারের দাম বেড়ে গিয়ে মুদ্রাস্ফীতি বা আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদের মূল পয়েন্টগুলো:
- ডলার ক্রয়: ২০ জানুয়ারি আরও ৪৫ মিলিয়ন ডলার ক্রয়।
- বিনিময় হার: প্রতি ডলার ১২২.৩০ টাকা।
- মাসিক হিসাব: জানুয়ারি ২০২৬-এ মোট ৭৪৩ মিলিয়ন ডলার ক্রয়।
- বার্ষিক হিসাব: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত মোট ৩.৮৭ বিলিয়ন ডলার ক্রয়।
- লক্ষ্য: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা ও বাজারের অস্থিরতা রোধ।