মিনিয়াপলিস : যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে অ্যালেক্স প্রেটি (৩৭) নামে এক মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এক মাসের ব্যবধানে শহরটিতে এটি তৃতীয় দফার ফেডারেল শ্যুটিংয়ের ঘটনা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসন এবং মিনেসোটা রাজ্য সরকারের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও পরস্পরবিরোধী দাবি
নিহত অ্যালেক্স প্রেটি পেশায় একজন আইসিইউ নার্স এবং বৈধ বন্দুকের লাইসেন্সধারী ছিলেন। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS) দাবি করেছে, এজেন্টরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছে কারণ প্রেটি তাদের বাধা দিচ্ছিলেন। তবে সিএনএন এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে প্রেটির হাতে কোনো বন্দুক ছিল না, বরং তিনি মোবাইল ফোন ধরে ছিলেন।
মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ ফেডারেল এজেন্টের এই দাবিকে “বানোয়াট” ও “মিথ্যা” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম X-এ (সাবেক টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মিনেসোটা আর সহ্য করবে না। প্রেসিডেন্টকে এখনই এই অপারেশন বন্ধ করতে হবে এবং হাজার হাজার সহিংস ও অপ্রশিক্ষিত অফিসারদের এখান থেকে সরিয়ে নিতে হবে।”
কেন্দ্র ও রাজ্যের চরম সংঘাত
মিনিয়াপলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তুলেছেন, রাজনৈতিক স্বার্থ কি আমেরিকান মূল্যবোধের চেয়েও বড়? অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে মেয়র এবং গভর্নরকে “বিদ্রোহে উস্কানি দেওয়ার” অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।
ইতোমধ্যেই গভর্নর টিম ওয়ালজ স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ফেডারেল এজেন্টদের হস্তক্ষেপ ছাড়াই রাজ্য নিজের জনগণকে রক্ষা করতে সক্ষম।
জনরোষ ও বিক্ষোভ
শনিবারের এই হত্যাকাণ্ডের পর তীব্র শীত উপেক্ষা করে শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও ফ্ল্যাশ ব্যাং ব্যবহার করে। ডিএইচএস সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম দাবি করেছেন, বিক্ষোভের সময় এক আন্দোলনকারীর কামড়ে এক এজেন্টের আঙুল কাটা পড়েছে।
প্রেক্ষাপট
চলতি জানুয়ারি মাসেই মিনিয়াপলিসে এটি তৃতীয় শ্যুটিংয়ের ঘটনা:
- ৭ জানুয়ারি: রেনি গুড নামে এক মার্কিন নারী আইসিই (ICE) এজেন্টের গুলিতে নিহত হন।
- ১৪ জানুয়ারি: এক ভেনেজুয়েলান নাগরিকের পায়ে গুলি করা হয়।
- ২৪ জানুয়ারি: অ্যালেক্স প্রেটি নিহত হলেন।
ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেন ই গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, অভিবাসন আইন প্রয়োগকে কেন্দ্র করে ফেডারেল এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, এই নতুন হত্যাকাণ্ড সেই ফাটলকে আরও গভীর করবে এবং পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে।