মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
ব্রোকারদের জন্য অভিন্ন ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার চান বিএসইসি চেয়ারম্যান: পাঁচ প্রতিষ্ঠানের ১৭,৩৩২ বিনিয়োগকারী পাচ্ছেন আইপিএফ তহবিলের ক্ষতিপূরণ পাইপলাইন গ্যাসের ঘাটতি ও এলপিজির তীব্র সংকট: আন্তর্জাতিক ফ্রেইট খরচ বাড়ায় বিপাকে গ্রাহক ভ্রমণ কোটার বাইরে আন্তর্জাতিক কার্ডে বিদেশি বিমান সংস্থার টিকিট কেনার সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়ার্ল্ডস্কিলস সাংহাই ২০২৬-এ বাংলাদেশের সাফল্য, ‘বেস্ট অব নেশন’ পুরস্কার পেলেন মাশফি কক্সবাজারে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের পাঁচ তারকা পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট তৈরিতে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক সই মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর ও দখলবাজি সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি আরএলএনজি থেকে রেকর্ড সরবরাহেও কাটেনি গ্যাস সংকট, দৈনিক ঘাটতি ১৪০০ এমএমসিএফডি বাংলা কিউআর লেনদেনে প্রণোদনার পরিধি বাড়াল, যুক্ত হলো ট্রেড লাইসেন্সধারী সব মার্চেন্ট রিহ্যাব নেতাদের ঋণখেলাপ ও কর পরিশোধের তথ্য চেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়

মার্চের প্রথম ১৪ দিনেই এলো ২২০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

# চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত এসেছে ২৪.৬৫ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বাংলাদেশের প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চের প্রথম ১৪ দিনে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্সে ৩৫.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।

মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে (১৪ দিনে) প্রবাসী কর্মীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২২০ কোটি (২.২০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ১৬২ কোটি ডলার। বিশেষ করে ১২ মার্চ থেকে ১৪ মার্চের মধ্যে মাত্র তিন দিনেই দেশে ২৮৪ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর ব্যাপক প্রবণতাকে নির্দেশ করছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন রেকর্ড গড়ছে। গত বছরের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৪.৬৫ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২০.১১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ২২.৬ শতাংশ।

রেমিট্যান্সের এই বিশাল উল্লম্ফন গত কয়েক মাসের ধারাবাহিক সাফল্যেরই অংশ। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ঈদুল ফিতরের প্রভাবে ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

বৈদেশিক মুদ্রার এই শক্তিশালী প্রবাহ দেশের রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস (Gross) রিজার্ভ ছিল ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আইএমএফ-এর বিপিএম-৬ (BPM-6) পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমানে নিট রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হুন্ডি বিরোধী কঠোর অবস্থান এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল হওয়ার কারণে প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

ব্যাংক কর্মকর্তা ও আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞরা মার্চের এই উল্লম্ফনের পেছনে দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:

  • রমজান ও ঈদের প্রস্তুতি: প্রতিবছরই রমজান ও ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা তাদের পরিবারের অতিরিক্ত খরচ মেটাতে বেশি পরিমাণে অর্থ দেশে পাঠান।
  • ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা: প্রথাগত ব্যাংকিং চ্যানেলের ওপর আস্থা বৃদ্ধি এবং ডলারের স্থিতিশীল বিনিময় হারের কারণে প্রবাসীরা এখন অবৈধ হুন্ডি পথ পরিহার করে বৈধ পথ বেছে নিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই গতি অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের মার্চ মাস একক মাস হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে রেমিট্যান্স আয়ের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে।