বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
কৃষি আধুনিকায়ন ও গ্রামীণ পুনর্জাগরণে মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করল চীন নারীদের নিয়ে অপপ্রচার চলছে, জামায়াতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন আমির রাজনৈতিক মতাদর্শ দেখে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগের অভিযোগ আসিফ মাহমুদের আর্কটিক অঞ্চলের জন্য নতুন নীতিমালার ডাক দিল ইইউ; গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্বে জোর ৯ ফেব্রুয়ারি বিটিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, আমরা কাজ করছি: সেনাপ্রধান টিআইবির ‘দিব্যদৃষ্টি’ নেই, তারা সব দেখতে পায় না: অর্থ উপদেষ্টা শিক্ষা ও গবেষণায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অফ রিডিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বেসরকারি ইপিজেড এখন থেকে ‘বেজা’র অধীনে: নতুন অধ্যাদেশ জারি

ভোট উপলক্ষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কঠোর বিধিনিষেধ, লেনদেন সীমা ১ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সাংবিধানিক গণভোটকে কেন্দ্র করে অবৈধ অর্থের লেনদেন ও ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা ঠেকাতে মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেনে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই বিশেষ কড়াকড়ি কার্যকর থাকবে। এই সময়ে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো জনপ্রিয় এমএফএস সেবাগুলোর লেনদেন সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন সম্ভাব্য লেনদেন সীমা:

নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) যে প্রস্তাবনা দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে:

  • একক লেনদেন সীমা: একবারে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকার বেশি পাঠানো যাবে না।
  • দৈনিক লেনদেন সীমা: দিনে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যাবে।
  • লেনদেনের সংখ্যা: দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার অর্থ পাঠানো বা গ্রহণ করা যাবে।

বর্তমানে একজন এমএফএস গ্রাহক দিনে ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। সেই তুলনায় নির্বাচনের কয়েকদিন এই সীমা হবে অত্যন্ত সীমিত।

ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও অ্যাপে নজরদারি

শুধু মোবাইল ব্যাংকিং নয়, বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ (যেমন: ব্র্যাক ব্যাংকের ‘আস্থা’, সিটি ব্যাংকের ‘সিটিটাচ’, ইসলামী ব্যাংকের ‘সেলফিন’) ব্যবহার করে পারসন-টু-পারসন (P2P) ফান্ড ট্রান্সফারও সাময়িকভাবে বন্ধ বা কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হতে পারে। বর্তমানে এসব অ্যাপের মাধ্যমে দিনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়, যা নির্বাচনের সময় জালিয়াতি বা অবৈধ অর্থ ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে বিএফআইইউ।

নগদ লেনদেনেও কড়াকড়ি

গত ১১ জানুয়ারি থেকেই শারীরিক নগদ টাকা বহনের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

  • কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি একদিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন করেন, তবে ব্যাংকগুলোকে তা প্রতি সপ্তাহে বিএফআইইউ-এর কাছে রিপোর্ট (CTR) করতে হবে।
  • সঠিক তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হলে বা অস্বাভাবিক লেনদেন নজরে এলে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়ার পর এই বিষয়ে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য চূড়ান্ত সার্কুলার জারি করা হবে।

আরও পড়ুন