বৃহস্পতিবার ১১ জুন, ২০২৬
সর্বশেষ:
আগামীকাল ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার মেগা বাজেট পেশ করবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু ইসলামী ব্যাংকের অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ এবিবির; এসএমই খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার নতুন প্যাকেজ তীব্র তারল্য সংকটে ইসলামী ব্যাংক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটির জরুরি সহায়তা আবেদন ইসলামী ব্যাংকে টানা ৭ম দিনের বিক্ষোভ: চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের অপসারণ দাবি গ্রাহকদের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ধস: সরকারকে ‘নীতি সহায়তা চার্টার’ দেবে বিজিএমইএ কৃষকদের জন্য সুখবর: ৮% সুদে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ হাজার কোটির পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ব্যাংক রেজুলেশন আইনের বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানাল সম্পাদক পরিষদ সাম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সিইও নাসের এজাজ বিজয়ের পদত্যাগ

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬: নতুন করে লুটের আশঙ্কায় বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া “ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬” ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই আইনের মাধ্যমে সাবেক “অলিগার্করা” (প্রভাবশালী গোষ্ঠী) আবারও রুগ্ন ব্যাংকগুলোর মালিকানায় ফিরে আসার সুযোগ পাবে।

শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ আয়োজিত “সংশোধিত ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬: আবারও ঝুঁকির মুখে ব্যাংকিং খাত” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বিশেষ করে এই আইনের নতুন যুক্ত হওয়া ১৮(ক) ধারার কঠোর সমালোচনা করেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, এই বিশেষ বিধানটির সুযোগ নিয়ে অতীতের স্বৈরাচারী আমলের সেই ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলো—যারা পরিকল্পিতভাবে ব্যাংক খালি করেছে—খুবই সামান্য বিনিয়োগের মাধ্যমে আবারও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে।

অর্ডিন্যান্স থেকে আইনে বিচ্যুতি

আলোচনায় উঠে আসে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমে ‘ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ এর মাধ্যমে রুগ্ন ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠন ও একীভূত করার ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছিল। সরকার ইতিমধ্যে এসব ব্যাংকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। তবে সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া সংশোধনীতে ১৮(ক) ধারাটি যুক্ত করে সেই সংস্কার প্রচেষ্টাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে।

লন্ডনের সোয়াস (SOAS) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোসতাক খান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত ছিল ব্যাংক লুটেরাদের সব সম্পদ ক্রোক করা। তিনি বলেন, “লুটেরারা এমন কৌশলে টাকা সরিয়েছে যে শুধু তাদের বন্ধক রাখা সম্পদ দিয়ে ক্ষতি পূরণ সম্ভব নয়। এই অবস্থায় তাদের আবার মালিকানায় ফেরার সুযোগ দেওয়া একটি বড় ভুল।”

ইসলামী ব্যাংক দখলের আশঙ্কা

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা বিভাগের ডিন ড. ওয়ারেসুল করিম দাবি করেন, ১৮(ক) ধারার মূল লক্ষ্য রুগ্ন ব্যাংক উদ্ধার নয়, বরং ইসলামী ব্যাংকের মতো সফল ব্যাংকগুলো পুনরায় দখল করা। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ ও তাদের সহযোগীরা এই আইনি ফাঁক ব্যবহার করে নামমাত্র খরচে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারে।

সুশাসনের অভাব ও রাজনৈতিক প্রভাব

সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার উচ্চপর্যায়ের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে এস আলম গ্রুপ যখন ইসলামী ব্যাংক দখল করে, তখন বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন। তিনি বলেন, “এটি দুর্ভাগ্যজনক যে ব্যাংক লুটের সহযোগীরা জেলে থাকার পরিবর্তে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বাধীনতা ছাড়া এই লুটপাট বন্ধ হবে না।”

এনসিপি-র (জাতীয় নাগরিক পার্টি) সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যেই অর্থনীতিতে দলীয়করণের উদাহরণ তৈরি করেছে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের সাথে এস আলম গ্রুপের অতীত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে ব্যাংকিং খাতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি দেন।

ভয়েস ফর রিফর্ম-এর সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিআইবিএম-এর প্রাক্তন মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী, সিএফএ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসিফ খান, প্রথম আলোর অনলাইন প্রধান শওকত হোসেন মাসুম এবং বাংলাদেশ-থাই চেম্বারের সভাপতি শামস মাহমুদ।

আলোচকরা অবিলম্বে এই আইন পর্যালোচনার দাবি জানান যাতে আর্থিক অপরাধীরা স্থায়ীভাবে ব্যাংকিং খাত থেকে দূরে থাকে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়।