রবিবার ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ:
দেশের অর্থনীতি মজবুত করতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী<gwmw style="display:none;"></gwmw> সোনালি ধানে মানবিকতার ছোঁয়া: কৃষক ও শহরের মানুষের এক অনন্য মেলবন্ধন ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬: নতুন করে লুটের আশঙ্কায় বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজ<gwmw style="display:none;"></gwmw> ইউনেসকাপে বাংলাদেশের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ‘বায়োইকোনমি’ প্রস্তাব গৃহীত টাকা ছাপিয়ে ঋণ নিচ্ছে সরকার: বাড়ছে মূল্যস্ফীতি ও জনভোগান্তির শঙ্কা শিল্প দুর্ঘটনার স্মৃতি থেকে শিক্ষা নিয়ে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান: শিল্পকলায় আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু ভুল সিলেবাসে পরীক্ষা: চরম অনিশ্চয়তায় ১ লাখ ৩৫ হাজার এসএসএসি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ কোটি ৩০ লাখ লিটার ভোজ্যতেল কিনছে সরকার<gwmw style="display:none;"></gwmw> শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয়ে ভয়াবহ সাইবার হামলা, ২৫ লাখ ডলার চুরি

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬: নতুন করে লুটের আশঙ্কায় বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া “ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬” ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আর্থিক খাতের বিশেষজ্ঞ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই আইনের মাধ্যমে সাবেক “অলিগার্করা” (প্রভাবশালী গোষ্ঠী) আবারও রুগ্ন ব্যাংকগুলোর মালিকানায় ফিরে আসার সুযোগ পাবে।

শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’ আয়োজিত “সংশোধিত ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬: আবারও ঝুঁকির মুখে ব্যাংকিং খাত” শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বিশেষ করে এই আইনের নতুন যুক্ত হওয়া ১৮(ক) ধারার কঠোর সমালোচনা করেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, এই বিশেষ বিধানটির সুযোগ নিয়ে অতীতের স্বৈরাচারী আমলের সেই ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলো—যারা পরিকল্পিতভাবে ব্যাংক খালি করেছে—খুবই সামান্য বিনিয়োগের মাধ্যমে আবারও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে।

অর্ডিন্যান্স থেকে আইনে বিচ্যুতি

আলোচনায় উঠে আসে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমে ‘ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ ২০২৫’ এর মাধ্যমে রুগ্ন ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠন ও একীভূত করার ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছিল। সরকার ইতিমধ্যে এসব ব্যাংকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। তবে সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া সংশোধনীতে ১৮(ক) ধারাটি যুক্ত করে সেই সংস্কার প্রচেষ্টাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে।

লন্ডনের সোয়াস (SOAS) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোসতাক খান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত ছিল ব্যাংক লুটেরাদের সব সম্পদ ক্রোক করা। তিনি বলেন, “লুটেরারা এমন কৌশলে টাকা সরিয়েছে যে শুধু তাদের বন্ধক রাখা সম্পদ দিয়ে ক্ষতি পূরণ সম্ভব নয়। এই অবস্থায় তাদের আবার মালিকানায় ফেরার সুযোগ দেওয়া একটি বড় ভুল।”

ইসলামী ব্যাংক দখলের আশঙ্কা

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা বিভাগের ডিন ড. ওয়ারেসুল করিম দাবি করেন, ১৮(ক) ধারার মূল লক্ষ্য রুগ্ন ব্যাংক উদ্ধার নয়, বরং ইসলামী ব্যাংকের মতো সফল ব্যাংকগুলো পুনরায় দখল করা। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বিতর্কিত এস আলম গ্রুপ ও তাদের সহযোগীরা এই আইনি ফাঁক ব্যবহার করে নামমাত্র খরচে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারে।

সুশাসনের অভাব ও রাজনৈতিক প্রভাব

সুজনের (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার উচ্চপর্যায়ের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে এস আলম গ্রুপ যখন ইসলামী ব্যাংক দখল করে, তখন বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন। তিনি বলেন, “এটি দুর্ভাগ্যজনক যে ব্যাংক লুটের সহযোগীরা জেলে থাকার পরিবর্তে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বাধীনতা ছাড়া এই লুটপাট বন্ধ হবে না।”

এনসিপি-র (জাতীয় নাগরিক পার্টি) সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যেই অর্থনীতিতে দলীয়করণের উদাহরণ তৈরি করেছে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের সাথে এস আলম গ্রুপের অতীত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে ব্যাংকিং খাতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের হুঁশিয়ারি দেন।

ভয়েস ফর রিফর্ম-এর সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিআইবিএম-এর প্রাক্তন মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী, সিএফএ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসিফ খান, প্রথম আলোর অনলাইন প্রধান শওকত হোসেন মাসুম এবং বাংলাদেশ-থাই চেম্বারের সভাপতি শামস মাহমুদ।

আলোচকরা অবিলম্বে এই আইন পর্যালোচনার দাবি জানান যাতে আর্থিক অপরাধীরা স্থায়ীভাবে ব্যাংকিং খাত থেকে দূরে থাকে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়।