ঢাকা, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬: বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন কারখানার তালিকায় শীর্ষস্থানে নিজেদের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করল বাংলাদেশ। গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশের এইচএএমএস গার্মেন্টস লিমিটেড (HAMS Garments Ltd.) লিড (LEED) সনদ অর্জনে ১১০ পয়েন্টের মধ্যে রেকর্ড ১০৮ পয়েন্ট পেয়ে বিশ্বসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এটি বিশ্বজুড়ে যেকোনো তৈরি পোশাক কারখানার জন্য এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্কোর।
মার্কিন গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (USGBC) থেকে পাওয়া এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, এইচএএমএস গার্মেন্টসসহ নতুন করে আরও তিনটি কারখানা এই মর্যাদা লাভ করেছে।
এক নজরে নতুন তিন গ্রিন কারখানা: নতুন যুক্ত হওয়া কারখানাগুলো হলো:
এইচএএমএস গার্মেন্টস লিমিটেড: ১০৮ পয়েন্ট (প্লাটিনাম)
ইকোট্রিমস বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউনিট-১): ৭০ পয়েন্ট (গোল্ড)
নাফা অ্যাপারেলস লিমিটেড (ইউনিট-১): ৬৫ পয়েন্ট (গোল্ড)
বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান এই তিনটি কারখানা যুক্ত হওয়ার ফলে বাংলাদেশে মোট সনদপ্রাপ্ত গ্রিন কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭৩টিতে। এর মধ্যে:
প্লাটিনাম সনদপ্রাপ্ত: ১১৫টি
গোল্ড সনদপ্রাপ্ত: ১৩৯টি
বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি: বিশ্বের সবচেয়ে সেরা ১০০টি লিড-প্রত্যয়িত কারখানার মধ্যে ৬৯টিই এখন বাংলাদেশে।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এইচএএমএস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জি. শফিকুল রহমান বলেন,
“এই অর্জন শুধু আমাদের কারখানার নয়, এটি পুরো বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের গর্ব। আমরা প্রমাণ করেছি যে উন্নয়নশীল দেশ হয়েও আমরা আন্তর্জাতিক মানের পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিত করতে সক্ষম।”
বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিজিএমইএ-র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “বাংলাদেশ এখন আর বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে না, বরং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এই অর্জন আমাদের সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”
তাৎপর্য শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ যখন এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে এবং বিশ্ববাজারে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে কঠোর নিয়ম আসছে, তখন এই ধরনের বিশ্বরেকর্ড বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারকে আরও নিরাপদ ও প্রতিযোগিতামূলক করবে।