শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
বিগত সরকারের ভুল নীতি ও আমদানিনির্ভরতাই বর্তমান জ্বালানি সংকটের কারণ: তিতুমীর ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ আবার ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়ালো ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনর্গঠনে নীতি সহায়তার আবেদনের সময় বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি গ্রাহকদের আসল আমানত ফেরত দিচ্ছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সেপ্টেম্বরেও অপরিবর্তিত থাকছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফা ২৬ হাজার কোটি টাকা, ৬ মূল বেতনের সমান বোনাস পাচ্ছেন কর্মকর্তারা উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র: ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিলের সুদহার কমিয়ে ৭% করল বাংলাদেশ ব্যাংক মেঘনা ব্যাংকের ৪০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড অনুমোদন করল বিএসইসি

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প টেকসই উন্নয়নের পথে এগুচ্ছে,ফোর এ ইয়ার্ন ডাইয়িং কারখানা পরিদর্শনে সুইস রাষ্ট্রদূত

ঢাকা:বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ক্রমেই টেকসই উন্নয়নের পথে এগুচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো র্যাং গলি। তিনি বলেছেন,কর্ম পরিবেশ উন্নয়ন, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কমপ্লায়েন্স মান উন্নয়নে অনেক দূর এগিয়েছে খাতটি। এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করা পরামর্শ দেন তিনি।

টিম গ্রুপের পোশাক কারখানা ফোর এ ইয়ার্ন ডাইয়িং পরিদর্শন শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। ব্রিফিংয়ের আগে তিনি সাভারের বাইপাইলে অবস্থিত কারখানার বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি। শ্রমিক কর্মচারিদের সঙ্গেও তাদের সুযোগ–সুবিধা এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি আলোচনা করেন।

সাংবাদিকদের সুইস রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, কারখানাটির কর্ম পরিবেশ দেখে তিনি ‘ইমপ্রেসড’ অভিভূত। এর আগে কোন দেশে এত চমৎকার কাঠামোর কারখানা দেখেন তিনি। বাংলাদেশের পোশাক খাতের টেসই উন্নয়নের এটা একটা বড় উদাহরণ। স্বাস্থ্যকর সবুজ পরিবেশে শ্রমিকরা কাজ করছেন। তাদের চিকিৎসা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ যথেস্ট দায়িত্বশীল। যেহেতু এ কারখানা থেকে উৎপাদিত পোশাক তার দেশ সুইজারল্যান্ডে আমদানি হয়– এ কারণে এখানকার কর্মপরিবেশ দেখতে কারখানাটি পরিদর্শনে এসেছেন তিনি। তবে নিজের এই বক্তব্যের বাইরে সাংবাদিকদের কোন প্রশ্নের জবাব দেন নি রাষ্ট্রদূত।

বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখার আগে ফোর এ ইয়ার্ন ডাইয়িংয়ের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন রাষ্ট্রদূত। সুইস দূতাবাসের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মিডিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা খালেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। ফোর ইয়ার্ন ডাইয়িংয়ের পক্ষে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ হিল নকিব, মার্কেটিং ও মার্সেনডাইজিং বিভাগের প্রধান মেহেদী হাসান আসিফ ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সুইস রাষ্ট্রদূত কেন আসলেন, কি পরারমর্শ দিয়েছেন–জানতে চাইলে আবদুল্লাহ হিল নকিব সাংবাদিকদের জানান, মূলত, বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের পোশাক খাত নিয়ে যে অপপ্রচার আছে, যে ইমেজ সংকট আছে–সেটা যে সত্য নয় তা সরেজমিনে দেখাতেই রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে এসেছেন তারা। কর্ম পরিবেশ, শ্রমিকদের সুযোগ–সুবিধা ও পণ্যের গুনগত মান দেখে তিনি অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে তাদের অনুমতি চেয়েছেন রাষ্ট্রদূত। দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ উন্নত করতে এ প্রচার ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তারা। এছাড়া তার দেশেও বাংলাদেশের পোশাক শিল্প সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

ফোর এ ইয়ার্ন ডাইয়িং যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবি) সবুজ কারখানার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন লিডের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি প্লাটিনাম সনদ পাওয়া কারখানা। উচ্চ মূল্যের বিভিন্ন ধরনের জ্যাকেট উৎপাদন হয় এখানে। ফ্রেইন অন বোর্ড–এফওবি পর্যায়ে ১০০ ডলারের কাছাকাছি এক একটি জ্যাকেটের মূল্য। ইউরোপ আমেরিকায় ভোক্তা পর্যায়ে ৭০০ থেকে ৮০০ ডলারেও বিক্রি হয় একটি পণ্য। বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের অন্তত ২০ ব্র্যান্ডের রপ্তানি আদেশের পোশাক উৎপাদন ও সরবরাহ করা হয় ফোর ইয়ার্ন ডাইয়িং কারখানা থাকে।