নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : ২০২৬ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় সামান্য কমে ৪.৪১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের (৪.৪৩ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় ০.৫ শতাংশ কম।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) মোট রপ্তানি আয় ১.৯৩ শতাংশ কমেছে। এই সময়ে আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮.৪১ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৮.৯৬ বিলিয়ন ডলার।
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রপ্তানি খাত বছরের ব্যবধানে আয় সামান্য কমলেও, আগের মাস ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে বাণিজ্যের গতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে রপ্তানি আয়ে ১৪.২৫ শতাংশের বড় ধস নামলেও জানুয়ারিতে তা কাটিয়ে ১১.২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। মাসভিত্তিক এই বড় উল্লম্ফন গত কয়েক মাসের ধারাবাহিক মন্দা কাটিয়ে রপ্তানি খাত স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রধান খাতসমূহের চিত্র দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক (RMG) খাত জুলাই-জানুয়ারি সময়ে মোট ২২.৯৮ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এই খাত গত বছরের তুলনায় ১১.৭৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
অন্যান্য খাতের মধ্যে মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে:
শীর্ষে থাকা খাত: চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্য এবং হালকা প্রকৌশল পণ্য জানুয়ারিতে বছর ও মাস—উভয় ভিত্তিতেই প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
পিছিয়ে থাকা খাত: কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য এবং হিমায়িত মাছ রপ্তানিতে ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে, যা পোশাক খাতের মতো ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি।
প্রধান রপ্তানি গন্তব্য বাংলাদেশি পণ্যের শীর্ষ বাজার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে দেশটিতে রপ্তানি আয় ৫.২১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের চেয়ে ১.৬৪ শতাংশ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্র: দেশটিতে বার্ষিক ভিত্তিতে ৩.৫৯ শতাংশ এবং মাসিক ভিত্তিতে ২.২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
ইউরোপ: ২.৮৫ বিলিয়ন এবং ২.৭৭ বিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম বাজার হিসেবে অবস্থান করছে জার্মানি ও যুক্তরাজ্য।
অন্যান্য বাজার: স্পেন এবং নেদারল্যান্ডসের বাজারেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রতিফলন।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশ্লেষকদের মতে, ডিসেম্বর ও জানুয়ারির মধ্যকার এই দ্বিগুণ অঙ্কের প্রবৃদ্ধি রপ্তানিকারকদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। তৈরি পোশাক ও চামড়া খাতের এই ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থবছরের শেষে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।