নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে রাজধানীতে সফলভাবে সম্পন্ন হলো ‘ইমাজেন ভেঞ্চারস ইয়ুথ চ্যালেঞ্জ ২০২৪-২৫’-এর জাতীয় পর্যায়ের ‘কমিউনিটি সলিউশন পিচ ডে’। দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে দেশের সেরা ১৬টি দলের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে খুলনা বিভাগের তরুণ উদ্ভাবক দল ‘টিম ইকো সেন্টিনেলস’।
আজ গুলশানের লেকশোর হোটেলে ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট-এর যৌথ উদ্যোগে ‘স্বপ্নের সারথি’ প্রকল্পের আওতায় এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপট ও প্রক্রিয়া
সারাদেশের ৮টি বিভাগ থেকে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উঠে আসা সেরা ১৬টি দল এই চূড়ান্ত পর্বে তাদের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সামাজিক উদ্যোগগুলো বিচারক প্যানেলের সামনে উপস্থাপন করেন। উল্লেখ্য, এই পিচ ডে ছিল বছরব্যাপী চলমান একটি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপ, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল বিভাগীয় বুটক্যাম্প, মেন্টরশিপ এবং সামাজিক উদ্ভাবন ইনকিউবেশন।
বিজয়ী ও উদ্ভাবনী সমাধান
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ১৬টি দল জলবায়ু অভিযোজন এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় সমাধান তুলে ধরে। সৃজনশীলতা, স্থায়িত্ব এবং সামাজিক প্রভাবের বিচারে বিচারকগণ খুলনা বিভাগের ‘টিম ইকো সেন্টিনেলস’-কে বিজয়ী ঘোষণা করেন। তারা বন্যাপ্রবণ এলাকার কৃষকদের সহায়তায় ফ্লোটিং এগ্রিকালচার (ভাসমান কৃষি) উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই কৃষিতে নতুন পথ দেখিয়েছেন।
বিশিষ্টজনদের বক্তব্য
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স তরুণদের উৎসাহ দিয়ে বলেন:
“আজকের এই পিচ ডে আপনাদের যাত্রার শেষ নয়; বরং এটি একটি সেতুবন্ধন—উন্নত ইনকিউবেশন, বৈশ্বিক সুযোগ এবং সবুজ ও টেকসই ভ্যালু চেইনে তরুণদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের নতুন পথ।”
ইকোটেক ইনোভেশন-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও গ্লোবাল বিজয়ী আব্দুল্লাহ আল আরাফ বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই আগামী দিনের সামাজিক ও পরিবেশগত উদ্যোক্তারা তৈরি হচ্ছে।
জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার কামরুল কিবরিয়া অয়ন সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “১৬টি দলের প্রত্যেকটিই বিজয়ী, কারণ তারা নিজ নিজ এলাকা থেকে পরিবর্তন আনার সাহস দেখিয়েছে। জাগো তরুণদের সৃজনশীলতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।”
পরবর্তী ধাপ
নির্বাচিত বিজয়ী দল এখন একটি উন্নত ইনকিউবেশন পর্যায়ে প্রবেশ করবে। সেখানে তারা নিজেদের প্রকল্পকে আরও পরিমার্জিত করার মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করবে। অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।