আন্তর্জাতিক ডেস্ক — নতুন বছরের শুরুতেই বড় সুখবর দিলো ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI)। শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসায় শুক্রবার (২ জানুয়ারি, ২০২৬) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটি (MPC) সর্বসম্মতিক্রমে মূল সুদের হার বা রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর ফলে ভারতের বর্তমান রেপো রেট ৫.৫০ শতাংশ থেকে কমে ৫.২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব: রেপো রেট কমার ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থার সুদের হার কমে আসবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর:
📉 কমবে ইএমআই (EMI): গৃহঋণ (Home Loan), গাড়ি কেনা বা ব্যক্তিগত ঋণের মাসিক কিস্তি বা ইএমআই কমে আসবে।
📉 সহজ হবে ব্যবসা: ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া আরও সাশ্রয়ী হবে।

📈 বিনিয়োগ বৃদ্ধি: ঋণের খরচ কমায় শিল্প কলকারখানায় নতুন বিনিয়োগের গতি বাড়বে।
‘গোলডিলকস পিরিয়ড’ ও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা: আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি “বিরল গোলডিলকস পিরিয়ড” (যেখানে প্রবৃদ্ধি ভালো এবং মুদ্রাস্ফীতি কম) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি: ২০২৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.৩ শতাংশ করা হয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: মুদ্রাস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২.৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
রুপির মান ও বাজার স্থিতিশীলতা: ডলারের বিপরীতে রুপির মান ৯০-এর ঘর স্পর্শ করলেও গভর্নর জানিয়েছেন, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাজার স্থিতিশীল রাখতে আরবিআই ১ লাখ কোটি রুপির সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয় (OMO) এবং ৫ বিলিয়ন ডলারের সোয়াপ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
গত এক বছরে (২০২৫-২৬) সব মিলিয়ে রেপো রেট মোট ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমানো হলো (৬.২৫% থেকে ৫.২৫%)। এতে ভারতীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।