বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ, ২০২৬
সর্বশেষ:
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মহাযুদ্ধের দামামা, বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস জ্বালানি সংকটের শঙ্কা: আলোকসজ্জা পরিহার ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমানোর নির্দেশ সরকারের সাদিক আহমেদের পদত্যাগ: নীতি সুদহার কমানোর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত করল বাংলাদেশ ব্যাংক বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে চীনা প্রতিষ্ঠান; ৪,১৭০ জনের কর্মসংস্থান<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ইরানে হামলায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার: যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ<gwmw style="display:none;"></gwmw> রপ্তানি সংকটের মুখে পোশাক শ্রমিকদের বেতন দিতে বিশেষ ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে: গভর্নর রপ্তানি খাতে ২৫০০ কোটি টাকা ছাড়: সরকারকে বিজিএমইএ’র ধন্যবাদ ডিসেম্বরে শ্রেণিকৃত ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা

একীভূত হওয়া ৫ ব্যাংকের আমানতকারীরা ২ বছর কোনো মুনাফা পাবেন না: গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বিপরীতে কোনো মুনাফা পাবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলো লোকসানে থাকায় শরিয়াহ নীতিমালা অনুযায়ী আমানতকারীদের মুনাফা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক রীতি এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং বিধিমালা অনুসরণ করে আমানতকারীদের দুই বছরের মুনাফায় ‘হেয়ারকাট’ করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গভর্নরের বক্তব্যের মূল বিষয়সমূহ:

  • শরিয়াহ পরিপালন: গভর্নর স্পষ্ট করেন যে, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ব্যাংক লাভ করলে গ্রাহক মুনাফা পান, আর লোকসান করলে তার দায়ও গ্রাহককে নিতে হয়। যেহেতু ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এই পাঁচটি ব্যাংকই বিশাল অঙ্কের লোকসান করেছে, তাই আমানতকারীদের মুনাফা দেওয়ার কোনো আইনি বা শরিয়াহগত ভিত্তি নেই।
  • ২০২৬ থেকে নতুন মুনাফা: ড. মনসুর আশ্বস্ত করেন যে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’-র বিনিয়োগ ও আমানত নীতি অনুযায়ী পুরনো ও নতুন সকল আমানতকারী নিয়মিত মুনাফা পাবেন।
  • অপরাধীদের বিচার: লুটপাটের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চলমান রয়েছে বলে জানান গভর্নর। তিনি বলেন, দোষীদের সম্পদ ইতিমধ্যেই জব্দ (Freeze) করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা ব্যাংকের তহবিলে স্থানান্তর করা হবে।
  • আমানত সুরক্ষা: গভর্নর জানান, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুততম সময়ে রেজল্যুশন স্কিম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত টাকা তোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

‘হেয়ারকাট’ ও একীভূতকরণ প্রক্রিয়া

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত হচ্ছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের কোনো মুনাফা আমানতকারীদের হিসাবে যোগ হবে না। যদি কোনো মুনাফা ইতিমধ্যে যোগ হয়ে থাকে, তবে তা বাদ দিয়ে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বরের স্থিতির ভিত্তিতে আমানত পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এর ফলে আমানতকারীদের মোট জমার পরিমাণ কিছুটা কমে যাবে।

সংকটের নেপথ্যে

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, এই পাঁচটি ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। বিপরীতে ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশই খেলাপি। সাবেক সরকার ঘনিষ্ঠ এস আলম গ্রুপ এবং নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে থাকা এসব ব্যাংক থেকে বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ বের করে নেওয়ার কারণেই এই চরম তারল্য সংকট ও লোকসান তৈরি হয়েছে।

এর আগে আমানতকারীদের আগে ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ারের মূল্য ‘শূন্য’ ঘোষণা করা হয়েছিল, যার ফলে তারা ইতিমধ্যে তাদের বিনিয়োগ হারিয়েছেন।