নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ (সাবেক গণভবন) পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার কয়েক দিন আগে আজ এই বিশেষ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
দুই ঘণ্টাব্যাপী এই পরিদর্শনের শুরুতে কূটনীতিকরা শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া প্রায় ৪ হাজার মানুষের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

জাদুঘরের গুরুত্ব ও লক্ষ্য
পরিদর্শনকালে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কূটনীতিকদের জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী ঘুরিয়ে দেখান। তিনি বলেন:
“এই জাদুঘরের মূল লক্ষ্য হলো শুধু বাংলাদেশেই নয়, বরং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেন এমন দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করা। এটি একই ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন বলেন, এই জাদুঘর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের এক জীবন্ত দলিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, এটি কেবল ৩৬ দিনের চূড়ান্ত অভ্যুত্থানের চিত্রই নয়, বরং গত ১৬ বছরের দীর্ঘ অপশাসনের ইতিহাসও ধারণ করছে।

আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
জাদুঘর পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার তার মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করে আমি অনুপ্রাণিত। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং ইতিহাস বুঝতে এটি একটি শক্তিশালী স্মারক হিসেবে কাজ করবে।”
উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
পরিদর্শনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, ইরান, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও উচ্চপদস্থ কূটনীতিকরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া জাতিসংঘ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) প্রতিনিধিরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই জাদুঘরের চিফ কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব আগত অতিথিদের জাদুঘরের বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও সংগৃহীত স্মারকের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এসময় পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।