মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সর্বশেষ:
ঈদে বেতন-বোনাস নিশ্চিতে পোশাক খাতকে সহায়তার আশ্বাস গভর্নরের<gwmw style="display:none;"></gwmw> নগদে বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব: গভর্নরের সঙ্গে ব্যারিস্টার আরমানের বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ঢাকা-ওয়াশিংটনের  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চীন সফরের আমন্ত্রণ<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> এজেন্ট ও আউটলেট কমলেও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত বেড়েছে ১৮ শতাংশ<gwmw style="display:none;"></gwmw> তৈরি পোশাক ও চাতাল শিল্পে ‘ন্যায্য রূপান্তর’ নিশ্চিতের দাবি বিলস-এর মতবিনিময় সভায়<gwmw style="display:none;"></gwmw> রমজান উপলক্ষে কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর ঘোষণা তুরস্ক ও সৌদি আরবের ৫ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি চুক্তি: ‘কপ-৩১’ সম্মেলনে স্বাক্ষরিত হবে দ্বিতীয় ধাপ রাজপরিবারে নতুন সংকট: প্রিন্স অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তার রাজা চার্লসের জন্য বড় পরীক্ষা

ঈদে বেতন-বোনাস নিশ্চিতে পোশাক খাতকে সহায়তার আশ্বাস গভর্নরের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস নিশ্চিত করতে তৈরি পোশাক শিল্পকে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা এবং আটকে থাকা নগদ সহায়তা দ্রুত ছাড় করার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে বিজিএমইএ-র একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে তিনি এই আশ্বাস দেন। বিজিএমইএ-র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান এবং সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি এই বৈঠকে অংশ নেয়।

গভীর সংকটে পোশাক খাত

বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান “গভীর সংকট” তুলে ধরেন। তাদের আলোচনার মূল পয়েন্টগুলো ছিল:

  • উৎপাদন দিবস হ্রাস: ২৮ দিনের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন ও ভাষা দিবসের ছুটির কারণে প্রকৃত উৎপাদন দিবস মাত্র ১৯ দিনে নেমে এসেছে। এতে শিপমেন্ট শিডিউল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
  • বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ: আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের চাহিদা ও দরপতন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কারখানাগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়েছে।
  • ঈদের চ্যালেঞ্জ: উৎপাদন সময় কমে যাওয়ায় লাখ লাখ শ্রমিকের ফেব্রুয়ারি ও মার্চের বেতন এবং ঈদের বোনাস সময়মতো পরিশোধ করা উদ্যোক্তাদের জন্য এক “বিরাট চ্যালেঞ্জ” হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজিএমইএ-র প্রধান সুপারিশসমূহ

শিল্পের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং শ্রমিক অসন্তোষ এড়াতে বিজিএমইএ গভর্নরের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করে:

বিষয়বিবরণ
বকেয়া নগদ সহায়তা ছাড়২০২৫-২৬ অর্থবছরের অডিট প্রক্রিয়ায় আটকে থাকা প্রায় ৫,৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা দ্রুত ছাড় করা।
এসএমই প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকারক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলোর টিকে থাকার স্বার্থে নগদ সহায়তা ছাড়ের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
মজুরি সহায়তা ঋণবিশেষ বিবেচনায় ২ মাসের মজুরির সমপরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে দেওয়া (৩ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ ১২ মাসে পরিশোধযোগ্য)।
নীতি সহায়তাপ্যাকিং ক্রেডিট (PC) পুনরায় চালু করে সুদের হার ৭% করা এবং প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট তহবিল ৫,০০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১০,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা।

ইতিবাচক পদক্ষেপের আশ্বাস

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বিজিএমইএ নেতাদের উদ্বেগ গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে “ইতিবাচক পদক্ষেপ” গ্রহণের কথা জানান।

তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে শ্রমিকদের পাওনা সময়মতো পরিশোধ করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য একটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বিশেষ করে এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে আটকে থাকা নগদ সহায়তার অর্থ দ্রুত ছাড় করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।