সোমবার ২০ জুলাই, ২০২৬
সর্বশেষ:
২০২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৫ শতাংশ হতে পারে: আইএমএফ<gwmw style="display:none;"></gwmw> আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকা ইপিজেডে শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রম ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করলেন আইএলও কান্ট্রি ডিরেক্টর জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা: প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আদালতের আদেশে বিএফআইইউর ৭৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক, সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট বেড়েছে ৭৪% পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী সৌদি আরব পুরনো মালিকদের হাতে ফিরল আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক<gwmw style="display:none;"></gwmw> গভর্নরের সাথে বিটিএমএ-র বৈঠক: বস্ত্র খাতের সংকট মোকাবিলায় নীতিগত সহায়তার দাবি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধির সভাপতিত্বে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

আইনের শাসন জোরদারে ‘বেঞ্চ বুক’: পাচার মামলার বিচারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ

মানবাধিকার ডেস্ক, ঢাকা: মানব পাচার মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক পদ্ধতি প্রচলনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে ‘মানব পাচার মামলায় কার্যকর ফৌজদারি বিচারিক প্রতিক্রিয়ার জন্য বিচার বিভাগের বেঞ্চ বুক’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক কার্যালয় (UNODC) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর যৌথ উদ্যোগে এই বেঞ্চ বুকটি প্রকাশিত হয়েছে।

উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব

সরকার-নেতৃত্বাধীন এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিচার বিভাগকে মানব পাচার সংক্রান্ত মামলার ন্যায্য, সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আঘাত-সংবেদনশীল (trauma-informed) নিষ্পত্তির জন্য ব্যবহারিক নির্দেশনা দিয়ে ক্ষমতায়ন করা হলো।

বেঞ্চ বুকটি বিচারকদের জন্য একটি বিস্তৃত বিচারিক রেফারেন্স সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করবে, যা তাদের মানব পাচার মামলাগুলো কার্যকর ও সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিচালনা করতে এবং একই সাথে ভুক্তভোগীদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষা করতে সহায়তা করবে।

আইন ও বিচার বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “এই বেঞ্চ বুকটির মূল উদ্দেশ্য হলো মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সক্ষমতা জোরদার করা। এটি জাতীয় আইন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্য, কার্যকর এবং আঘাত-সংবেদনশীল বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে।”

সহযোগিতা ও সমর্থন

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং কোরিয়া আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (KOICA)-এর আর্থিক সহায়তায় বেঞ্চ বুকটি তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সহযোগিতা প্রধান মিচাল ক্রেজা বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই উদ্যোগকে সমর্থন করতে পেরে গর্বিত, যা মানব পাচারে বাংলাদেশের বিচারিক প্রতিক্রিয়া এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখার প্রতি আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকারকে শক্তিশালী করে। বেঞ্চ বুকটি বাংলাদেশের সর্বত্র ন্যায্য, সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক বিচারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে, যা আইনের শাসনকে আরও শক্তিশালী করবে।”

এছাড়াও, KOICA এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা যেন তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ও সুরক্ষা পান তা নিশ্চিত করতে এবং পাচারকারীদের সম্পূর্ণ জবাবদিহিতার আওতায় আনতে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ, ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক রায় প্রদানে সহায়তার জন্য বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করেছে।

IOM বাংলাদেশে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যাথরিন নর্দিং এবং ইউএনওডিসি সদর দপ্তরের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিভাগের উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী জি এই লি সহ অন্যান্য বক্তারা অনুষ্ঠানে তাদের মন্তব্য প্রদান করেন।

আইন ও বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।