শুক্রবার ৮ মে, ২০২৬
সর্বশেষ:
বাংলাদেশ ব্যাংকের আধুনিকায়নে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ব্যবসা পুনর্গঠনে নীতিগত সহায়তার মেয়াদ বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক পরিবহন খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় একীভূত নীতিমালা জারি করল বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকানপাট: দোকান মালিক সমিতি পোশাক খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিজিএমইএ ও আইভি ডিকার্ব-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর তেল-গ্যাসের পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়: নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের সৌদি তেলের জাহাজ বন্দরে: পূর্ণ উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে ভুক্তভোগী আমানতকারীদের মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন প্রতিবাদ মূল শিরোনাম: দেশে ফের বাড়ল মূল্যস্ফীতি, এপ্রিলে দাঁড়িয়েছে ৯.০৪ শতাংশে

১৯ দিনেই এলো ২.১২ বিলিয়ন ডলার: এপ্রিলেও রেমিট্যান্সে চাঙ্গাভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা – চলতি এপ্রিল মাসেও প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মাসের প্রথম ১৯ দিনেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলের প্রথম ১৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার একই সময়ে ৪০ কোটি ৮০ লাখ ডলার বেশি এসেছে।

রেকর্ড গড়া মার্চ ও পূর্ববর্তী চিত্র

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মার্চ মাস ছিল দেশের ইতিহাসে প্রবাসী আয়ের জন্য একটি মাইলফলক। ওই মাসে প্রবাসীরা রেকর্ড ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছিলেন, যা এক মাসের হিসেবে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ।

এর আগে উল্লেখযোগ্য রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চে (৩.২৯ বিলিয়ন ডলার), ডিসেম্বরে (৩.২২ বিলিয়ন ডলার) এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে (৩.১৭ বিলিয়ন ডলার)।

প্রবাহ বৃদ্ধির কারণ

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও অস্থিরতার প্রভাব বৈশ্বিক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা বাড়ায় স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারও বেড়েছে। এর ফলে প্রবাসীরা দেশে ডলার পাঠিয়ে আগের চেয়ে বেশি টাকা পাচ্ছেন, যা তাদের রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করছে। বর্তমানে প্রতি ডলার ১২২ টাকা বা তার বেশি দরে বিনিময় হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের সতর্কতা

রেমিট্যান্সের এই উল্লম্ফন দেশের অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও সতর্কবার্তা দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা সরকারকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছেন।

সংক্ষেপে তথ্যচিত্র:

সর্বোচ্চ রেকর্ড (মার্চ ২৬): ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার।

এপ্রিল (১–১৯ তারিখ): ২.১২ বিলিয়ন ডলার।

গত বছরের একই সময়: ১.৭১ বিলিয়ন ডলার।

প্রবৃদ্ধির পরিমাণ: ৪০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।