মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ:
বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে টেলিনর সিইও-র সাক্ষাৎ জ্বালানি সাশ্রয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত: ৩ মাস সরকারি তেল নেবেন না মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম নারীদের ডিজিটাল ও আর্থিক ক্ষমতায়নে রমণীর সাথে বাংলালিংকের অংশীদারিত্ব জ্বালানি সংকটে তৈরি পোশাক উৎপাদন ২৫-৩০ শতাংশ হ্রাস; বিজিএমইএ’র জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি<gwmw style="display:none;"></gwmw> মানি মার্কেটে লেনদেন-ভিত্তিক রেফারেন্স রেট চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক রেজুলেশন আইন দুর্নীতির সহায়ক ও লুটেরাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ: টিআইবি কৃষিখাতকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করাই কৃষক কার্ডের লক্ষ্য : মাহদী আমিন<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে আলতাফ হুসাইনের দায়িত্ব গ্রহণ দ্রুত খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার : মাহদী আমিন

সিন্ডিকেটের কারণে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস: ক্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :  নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ভেজাল পণ্যের প্রসারে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বক্তারা। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে অবিলম্বে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উপলক্ষে রবিবার (১৫ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্যাব সভাপতি ও সাবেক সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হলেও বাংলাদেশে সরকারিভাবে জাতীয় পর্যায়ে এটি পালিত না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি অভিযোগ করেন, বাজার সিন্ডিকেটগুলো অযৌক্তিকভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, “বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারকে অবিলম্বে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে।”

বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। সরকারি দল যদি এ ধরনের সুযোগ বন্ধ করে দেয়, তবে সিন্ডিকেটগুলো অনেকাংশেই ভেঙে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স উৎপাদন পর্যায় থেকেই নিরাপদ ও সাশ্রয়ী উৎপাদন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিষাক্ত ও ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি এবং নিরাপদ পানীয় জলের নিশ্চয়তা দাবি করেন।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া এবং সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান রাজু বলেন, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর অনৈতিক আচরণের কারণে বাজার অস্থির হয়ে ওঠে।

ভোক্তা স্বার্থ রক্ষায় সমাবেশে বেশ কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • ভেজাল, নকল ও অনিরাপদ পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
  • পণ্য মজুত ও অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা।
  • পণ্যের গায়ে সঠিক মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদের তারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা।
  • ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আধুনিকায়ন।
  • অনলাইন ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বিক্রিত পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালের ১৫ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি মার্কিন কংগ্রেসে ভোক্তা অধিকারের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। সেই দিনটিকে স্মরণ করে ১৯৮৩ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে ক্যাব দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তাদের মৌলিক অধিকার আদায়ে এই দিবসটি পালন করে আসছে।