বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
সর্বশেষ:
সার্ক শক্তিশালী হলে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি আরও সমৃদ্ধ হবে: নজরুল ইসলাম খান<gwmw style="display:none;"></gwmw> বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে নীতি সংস্কারের তাগিদ ব্যবসায়ী নেতাদের<gwmw style="display:none;"></gwmw><gwmw style="display:none;"></gwmw> ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিতে কঠোর বিএফআইইউ: শীর্ষ কর্মকর্তাদের নৈতিক অঙ্গীকারনামা বাধ্যতামূলক অভিজ্ঞ ব্যাংক কর্মকর্তাদের জন্য ডিপ্লোমা বাধ্যতামূলক নয়: নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেড় মাসে হামের উপসর্গে ২২৭ শিশুর মৃত্যু: ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ৮৮ আন্তব্যাংক বাজারে ডলারের দাম ১২২.৭৫ টাকায় স্থিতিশীল ৮৮ হাজার করদাতার রিটার্ন যাচাই–বাছাই করবে এনবিআর<gwmw style="display:none;"></gwmw> আমেরিকান বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়াতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র হতে চায় এসআইবিএল; সাবেক পরিচালকদের আবেদন

মহাকাশ জয় করে ফিরল চিনা ‘স্পেস রোজ’: কৃষি বিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বেইজিং: মহাকাশ প্রযুক্তি এবং আধুনিক কৃষির এক অভিনব মেলবন্ধনে সফল হলো চিন। দেশটির হেনান প্রদেশ থেকে পাঠানো একদল মূল্যবান গোলাপের বীজ মহাকাশ ভ্রমণ শেষে পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। চিনের মহাকাশ প্রজনন (Space Breeding) কর্মসূচির আওতায় এই ঐতিহাসিক উপ-কক্ষপথ (Suborbital) মিশনটি সম্পন্ন হয়েছে।

ঐতিহাসিক এই যাত্রার বিস্তারিত

শুক্রবার ‘চায়না মিডিয়া গ্রুপ’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হেনান প্রদেশের নানিয়াং অঞ্চলের বিখ্যাত এই গোলাপের বীজগুলো ‘লিহং-১ ওয়াই১’ (Lihong-1 Y1) নামক একটি বাণিজ্যিক মহাকাশযানে করে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। গত ১২ জানুয়ারি উত্তর-পশ্চিম চিনের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে মহাকাশযানটি যাত্রা শুরু করে। কার্মান লাইনের (পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২০ কিমি উচ্চতা) উপরে প্রায় ৩০০ সেকেন্ড অবস্থান করার পর একটি প্যারাসুটের সাহায্যে ক্যাপসুলটি নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসে।

কেন এই মহাকাশ যাত্রা?

লিহং-১-এর প্রধান নকশাকার শি জিয়াওনিং জানান, বীজগুলো মহাকাশে থাকাকালীন তীব্র মহাজাগতিক বিকিরণ (Cosmic Radiation) এবং মাইক্রোগ্রাভিটি বা অতি-ক্ষুদ্র অভিকর্ষজ পরিবেশের সম্মুখীন হয়েছে। এই পরিবেশ বীজের ডিএনএ-তে এমন কিছু পরিবর্তন বা ‘মিউটেশন’ ঘটায় যা পৃথিবীতে কৃত্রিমভাবে করা প্রায় অসম্ভব।

গবেষকদের মূল লক্ষ্য হলো:

  • রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন নতুন জাতের গোলাপ তৈরি।
  • ফুলের স্থায়িত্ব বা ফুটে থাকার সময়কাল বৃদ্ধি করা।
  • সম্পূর্ণ নতুন এবং বৈচিত্র্যময় রঙের গোলাপ উদ্ভাবন।

কৃষি আধুনিকায়নে নতুন সম্ভাবনা

মহাকাশ প্রজনন প্রযুক্তির প্রধান সুবিধা হলো এটি সাধারণ প্রজনন পদ্ধতির তুলনায় অনেক দ্রুত এবং কার্যকর। নানিয়াং ভোকেশনাল কলেজ অব এগ্রিকালচার এবং হেনান এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা এই বীজগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। বর্তমানে বীজগুলোকে নানিয়াং-এর জাতীয় গোলাপ জিন ব্যাংক বা ‘জার্মপ্লাজম ব্যাংকে’ পাঠানো হয়েছে।

বাণিজ্যিক মহাকাশ গবেষণাগার

‘লিহং-১ ওয়াই১’ মূলত একটি স্বল্পব্যয়ী এবং নমনীয় উপ-কক্ষপথ গবেষণাগার হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। গোলাপের বীজের পাশাপাশি এতে চিনা একাডেমি অব সায়েন্সেসের তৈরি বিশেষ লেজার ম্যানুফ্যাকচারিং সরঞ্জামও পাঠানো হয়েছিল। এই মহাকাশযানটি ভবিষ্যতে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে, যা একদিকে যেমন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় গতি আনবে, অন্যদিকে বাণিজ্যিক মহাকাশ পর্যটনের পথও প্রশস্ত করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফল পরীক্ষা কেবল ফুলের ক্ষেত্রেই নয়, বরং খাদ্যশস্য এবং সবজির উন্নত জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে জাতীয় বীজ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।