সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ:
সাড়ে ৫ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে টাকা: বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ ও ইউনানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ১৪তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত জলবায়ু পরিবর্তনে বদলে যাচ্ছে খানাপিনার অভ্যাস, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: গবেষণা কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা এসডিজি অর্জনে গতি বৃদ্ধি ও সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার দাবি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলো তিতাস-২৮ কূপের গ্যাস, দৈনিক মিলবে ১২-১৩ এমএমসিএফডি বিজিএমইএ কাপ ২০২৬-এর ট্রফি উন্মোচন ও বাফুফে অংশীদারিত্ব উদযাপন বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত পুনরুজ্জীবনে ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ ইইউতে কমেছে পোশাক আমদানি, তবে জুন ও জুলাইয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি

বিদেশি বিনিয়োগের মুনাফা ও মূলধন ফেরতে কড়াকড়ি শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা : দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও সহজতর করার লক্ষ্যে শেয়ার হস্তান্তর ও বিক্রয়লব্ধ অর্থ নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার (প্রত্যাবাসন) নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে অ-তালিকাভুক্ত সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানির ক্ষেত্রে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থ পাঠাতে আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না; ব্যাংকগুলো নিজেরাই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে।

সোমবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নীতিগত পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে। আগে এই অনুমোদনের সীমা ছিল মাত্র ১০ কোটি টাকা।

প্রজ্ঞাপনের মূল বিষয়সমূহ:

  • সীমা বৃদ্ধি: অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখন থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিক্রয়লব্ধ অর্থ ব্যাংকগুলোর মাধ্যমেই নিজ দেশে পাঠাতে পারবেন।
  • মূল্যায়ন পদ্ধতি: স্বাধীন মূল্যায়নকারী দ্বারা নির্ধারিত ন্যায্যমূল্য (Fair Value) থাকলে ব্যাংকগুলো সরাসরি এই অর্থ পাঠাতে পারবে। তবে লেনদেনের পরিমাণ ১ কোটি টাকার কম হলে কোনো স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদনের প্রয়োজন হবে না।
  • নেট অ্যাসেট ভ্যালু (NAV): যদি লেনদেনের পরিমাণ সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর নিট সম্পদ মূল্য (NAV) অতিক্রম না করে, তবে অর্থের পরিমাণ যাই হোক না কেন, ব্যাংকগুলো কোনো অতিরিক্ত ঝামেলা ছাড়াই অর্থ পাঠাতে পারবে। এতে মূলধন বাইরে নেওয়ার দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সুশাসন নিশ্চিতকরণে অভ্যন্তরীণ কমিটি:

ব্যাংক পর্যায়ে এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ব্যাংকে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

  • ছোট লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (CFO) কমিটির নেতৃত্ব দেবেন।
  • ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে কমিটির প্রধান হবেন ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO)। এই কমিটিতে অবশ্যই সিএফএ (CFA)-এর মতো পেশাদার সনদধারী সদস্য থাকতে হবে, যারা মূল্যায়ন প্রতিবেদন যাচাই করবেন।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও সময়সীমা:

বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনটি পদ্ধতি— নিট সম্পদ মূল্য (NAV), মার্কেট অ্যাপ্রোচ এবং ডিসকাউন্টেড ক্যাশ ফ্লো (DCF) পদ্ধতির বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে।

লেনদেন দ্রুত সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে:

  • ৫ কর্মদিবস: কোনো অসংগতি না থাকলে ব্যাংকগুলোকে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
  • ৩ কর্মদিবস: যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, তবে ব্যাংকগুলোকে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন পাঠাতে হবে।
  • ১৪ দিন: ব্যাংক পর্যায়ে সম্পন্ন হওয়া সব লেনদেনের তথ্য ১৪ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।

এছাড়া, মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত আর্থিক বিবরণী সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের তারিখ থেকে ৬ মাসের বেশি পুরনো হওয়া যাবে না। পুরনো হলে মধ্যবর্তী সময়ের জন্য নতুন অডিট রিপোর্ট প্রস্তুত করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদারীকরণ নীতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করবে।